ঢাকা ০৫:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভারতের সঙ্গে রেল ট্রানজিট চুক্তি বাতিল চেয়ে আইনি নোটিশ

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সংযোগকারী রেল ট্রানজিট সমঝোতা চুক্তি বাতিলের দাবিতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। রেল মন্ত্রণালয় সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব ও আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নোটিশটি পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২৬ জুন) রেজিস্ট্রি ডাকযোগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান নোটিশটি পাঠান।

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ও ভবিষ্যতে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক সংঘাত এড়াতে এই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত “সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়” নীতি অনুসরণ করে আসছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সংঘাত ও সহিংসতা থেকে নিজেকে সুরক্ষার জন্য শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে “ব্যালেন্স অব পাওয়ার” নীতি অনুসরণ করে আসছে। কিন্তু ২০২৪ সালের জুন মাসে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের রেল ট্রানজিট সংক্রান্ত সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশের “ব্যালেন্স অব পাওয়ার” নীতি হুমকির মুখে পড়েছে। ফলশ্রুতিতে ভারতের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হ‌ওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন বন্ধুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের মধ্যে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা নতুন কিছু নয়। কিন্তু ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের রেল ট্রানজিট স্বাভাবিক কোনও বিষয় নয়। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর অবস্থা স্বাভাবিক নয়। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী রয়েছে যারা ভারত থেকে স্বাধীনতা চায়। এছাড়া ভারতের অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে চীনের সঙ্গে ব্যাপক বিবাদ রয়েছে। অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে ভারত ও চীনের নিয়মিত সংঘাত লেগেই থাকে এবং ইতোপূর্বে ভারত ও চীনের সঙ্গে যুদ্ধ হয়েছে। এসব কারণে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে দ্রুত সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর জন্য বাংলাদেশের রেল ট্রানজিট প্রয়োজন। এছাড়া বর্তমানে ভারতের শিলিগুড়ি দিয়ে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে সড়ক ও রেল যোগাযোগ আছে যা শিলিগুড়ি করিডোর বা “চিকন নেক” বলে পরিচিত। এই শিলিগুড়ি করিডোর চীনের নিকটবর্তী হ‌ওয়ায় ভারত তার সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর নিরাপদ রাস্তা হিসেবে বাংলাদেশের রেল ট্রানজিট ব্যাবহার করতে চাইছে। এসব কারণে ভারতকে রেল ট্রানজিট দেওয়া বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের উপর ব্যাপক ঝুঁকি তৈরি করবে। কারণ ভবিষ্যতে চীন ও ভারতের মধ্যে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হলে চীনের সামরিক বাহিনী ভারতের সামরিক সরঞ্জামের জোগান বাধাগ্রস্ত করার জন্য বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ভারতীয় রেলের উপর মিসাইল হামলা চালাতে পারে। যুদ্ধে প্রতিপক্ষের সামরিক সরঞ্জামের জোগানে হামলা একটি পুরাতন রীতি। বর্তমানে চীনের কাছে ব্যাপক পরিমাণে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মিসাইল আছে যার মাধ্যমে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে তারা অনায়াসে হামলা চালাতে পারে। এছাড়া বাংলাদেশের কাছে কোনও অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেম নেই। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ কোনও বিদেশি রাষ্ট্রের মিসাইল হামলা ঠেকাতে পারবে না।

তাই এই আইনি নোটিশ পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি স্বরূপ এবং ভবিষ্যতে চীনের সঙ্গে সামরিক সংঘাত সৃষ্টিকারী এই রেল ট্রানজিট সমঝোতা চুক্তি বাতিলের অনুরোধ জানানো হয়েছে। না হয় এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে রিট মামলা করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্যাগস :

ভারতের সঙ্গে রেল ট্রানজিট চুক্তি বাতিল চেয়ে আইনি নোটিশ

আপডেট সময় ০৭:৩১:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুন ২০২৪

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সংযোগকারী রেল ট্রানজিট সমঝোতা চুক্তি বাতিলের দাবিতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। রেল মন্ত্রণালয় সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব ও আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নোটিশটি পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২৬ জুন) রেজিস্ট্রি ডাকযোগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান নোটিশটি পাঠান।

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ও ভবিষ্যতে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক সংঘাত এড়াতে এই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত “সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়” নীতি অনুসরণ করে আসছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সংঘাত ও সহিংসতা থেকে নিজেকে সুরক্ষার জন্য শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে “ব্যালেন্স অব পাওয়ার” নীতি অনুসরণ করে আসছে। কিন্তু ২০২৪ সালের জুন মাসে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের রেল ট্রানজিট সংক্রান্ত সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশের “ব্যালেন্স অব পাওয়ার” নীতি হুমকির মুখে পড়েছে। ফলশ্রুতিতে ভারতের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হ‌ওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন বন্ধুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের মধ্যে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা নতুন কিছু নয়। কিন্তু ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের রেল ট্রানজিট স্বাভাবিক কোনও বিষয় নয়। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর অবস্থা স্বাভাবিক নয়। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী রয়েছে যারা ভারত থেকে স্বাধীনতা চায়। এছাড়া ভারতের অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে চীনের সঙ্গে ব্যাপক বিবাদ রয়েছে। অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে ভারত ও চীনের নিয়মিত সংঘাত লেগেই থাকে এবং ইতোপূর্বে ভারত ও চীনের সঙ্গে যুদ্ধ হয়েছে। এসব কারণে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে দ্রুত সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর জন্য বাংলাদেশের রেল ট্রানজিট প্রয়োজন। এছাড়া বর্তমানে ভারতের শিলিগুড়ি দিয়ে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে সড়ক ও রেল যোগাযোগ আছে যা শিলিগুড়ি করিডোর বা “চিকন নেক” বলে পরিচিত। এই শিলিগুড়ি করিডোর চীনের নিকটবর্তী হ‌ওয়ায় ভারত তার সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর নিরাপদ রাস্তা হিসেবে বাংলাদেশের রেল ট্রানজিট ব্যাবহার করতে চাইছে। এসব কারণে ভারতকে রেল ট্রানজিট দেওয়া বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের উপর ব্যাপক ঝুঁকি তৈরি করবে। কারণ ভবিষ্যতে চীন ও ভারতের মধ্যে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হলে চীনের সামরিক বাহিনী ভারতের সামরিক সরঞ্জামের জোগান বাধাগ্রস্ত করার জন্য বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ভারতীয় রেলের উপর মিসাইল হামলা চালাতে পারে। যুদ্ধে প্রতিপক্ষের সামরিক সরঞ্জামের জোগানে হামলা একটি পুরাতন রীতি। বর্তমানে চীনের কাছে ব্যাপক পরিমাণে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মিসাইল আছে যার মাধ্যমে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে তারা অনায়াসে হামলা চালাতে পারে। এছাড়া বাংলাদেশের কাছে কোনও অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেম নেই। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ কোনও বিদেশি রাষ্ট্রের মিসাইল হামলা ঠেকাতে পারবে না।

তাই এই আইনি নোটিশ পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি স্বরূপ এবং ভবিষ্যতে চীনের সঙ্গে সামরিক সংঘাত সৃষ্টিকারী এই রেল ট্রানজিট সমঝোতা চুক্তি বাতিলের অনুরোধ জানানো হয়েছে। না হয় এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে রিট মামলা করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।