ঢাকা ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েল-গাজা সংঘাতে মৃত্যু ১৮০০ ছাড়াল

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:৪৩:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩
  • ১৮৩ বার পড়া হয়েছে

ইসরায়েল-গাজা সংঘাতে মৃত্যু ১৮০০ ছাড়াল

ইসরায়েল ও গাজার চলমান সংঘাতে দুই পক্ষের নিহতের সংখ্যা ১৮০০ ছাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামাস পরিচালিত গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন চার হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। অন্যদিকে ইসরায়েলি মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে।

ইসরায়েল সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের বিরুদ্ধে বিশাল শক্তি প্রয়োগের কথা বলেছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেছেন, কয়েক দশকের মধ্যে ইসরায়েলের মাটিতে সবচেয়ে খারাপ হামলা হয়েছে। এখন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রতিশোধ নেওয়া শুরু করেছে। শনিবারের আকস্মিক হামলার পর থেকে ইসরায়েলে প্রায় ৯০০ জন মারা গেছে।

এদিকে ইসরায়েলের দক্ষিণের শহর আশকেলন থেকে বাসিন্দাদের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার মধ্যে সরে যেতে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল হামাস। কারণ সেখানে হামলা করা হবে বলে তারা ঘোষণা দিয়েছে।ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহতদের মধ্যে শতাধিক শিশু ও ১০০ বেশি নারী রয়েছে।

এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে –
-ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
-হামাসের হামলার পেছনে ইসরায়েল দায়ী বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তিনি বলেছেন, ‘যারা ইহুদিবাদী শাসকদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করেছে আমরা তাদের হাতে চুম্বন করি।’ তবে তিনি হামাস যোদ্ধাদের হামলার পেছনে ইরানের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।।

-ইসরায়েলকে মার্কিন সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলি কোহেনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। ব্লিনকেন বলেছেন, ‘সব জিম্মিদের মুক্তি অবিলম্বে নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।’

-ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ বলছে, ইসরায়েলে ও গাজা উপত্যকার আশপাশে দেড় হাজার হামাস যোদ্ধার লাশ পাওয়া গেছে।

-জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরদান বলেছেন, ইসরায়েল থেকে অপহরণের পর গাজায় ‘১০০ থেকে ১৫০ জনকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে।’

-সোমবার সন্ধ্যায় হামাস হুঁশিয়ারি দেয়, যদি ইসরায়েল কোনো সতর্কতা ছাড়া বিমান হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে তারা ইসরায়েল থেকে আটক করা জিম্মিদের হত্যা করবে। তাদের এই হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পশ্চিমা নেতারা।

-যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জিম্মিদের নিয়ে আলোচনায় যাবে না বলে জানিয়েছে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান ইসমাইল হানিয়াহ।

-রাতভর হামাসের অন্তত ২০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের বিমানবাহিনী। গাজা সীমান্তে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ৩৫টি ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হয়েছে।

-গাজা উপত্যকাজুড়ে এক লাখ ৮৭ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এই সংখ্যা আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের ৮৩টি স্কুলে এক লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ মানুষকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

-ইউনিসেফ গাজার ভেতরে ও বাইরে একটি মানবিক করিডোর স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে। কারণ ইসরায়েল জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে গাজার হাসপাতালগুলো।

-গাজার জ্বালানি কয়েক দিনের মধ্যে ফুরিয়ে যেতে পারে, এতে বিদ্যুতের অভাবে অন্ধকারে ডুবে যেতে পারে গাজা উপত্যকা : জাতিসংঘ

-ইসরায়েলি বোমা হামলার কারণে মিসরের রাফাহ ক্রসিং বন্ধ হয়ে গেছে। এটাই অবরুদ্ধ গাজা থেকে মানুষের বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ। এ ছাড়া ইসরায়েলও গাজার সঙ্গে তাদের সীমানা বন্ধ করে দিয়েছে। ইসরায়েল ফিলিস্তিনের মধ্যে সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে এমন উদ্বেগের কারণে তেলের দাম বেড়ে গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পিটার হাসকে হুমকিদাতা ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

ইসরায়েল-গাজা সংঘাতে মৃত্যু ১৮০০ ছাড়াল

আপডেট সময় ১০:৪৩:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩

ইসরায়েল ও গাজার চলমান সংঘাতে দুই পক্ষের নিহতের সংখ্যা ১৮০০ ছাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামাস পরিচালিত গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন চার হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। অন্যদিকে ইসরায়েলি মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে।

ইসরায়েল সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের বিরুদ্ধে বিশাল শক্তি প্রয়োগের কথা বলেছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেছেন, কয়েক দশকের মধ্যে ইসরায়েলের মাটিতে সবচেয়ে খারাপ হামলা হয়েছে। এখন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রতিশোধ নেওয়া শুরু করেছে। শনিবারের আকস্মিক হামলার পর থেকে ইসরায়েলে প্রায় ৯০০ জন মারা গেছে।

এদিকে ইসরায়েলের দক্ষিণের শহর আশকেলন থেকে বাসিন্দাদের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার মধ্যে সরে যেতে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল হামাস। কারণ সেখানে হামলা করা হবে বলে তারা ঘোষণা দিয়েছে।ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহতদের মধ্যে শতাধিক শিশু ও ১০০ বেশি নারী রয়েছে।

এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে –
-ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
-হামাসের হামলার পেছনে ইসরায়েল দায়ী বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তিনি বলেছেন, ‘যারা ইহুদিবাদী শাসকদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করেছে আমরা তাদের হাতে চুম্বন করি।’ তবে তিনি হামাস যোদ্ধাদের হামলার পেছনে ইরানের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।।

-ইসরায়েলকে মার্কিন সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলি কোহেনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। ব্লিনকেন বলেছেন, ‘সব জিম্মিদের মুক্তি অবিলম্বে নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।’

-ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ বলছে, ইসরায়েলে ও গাজা উপত্যকার আশপাশে দেড় হাজার হামাস যোদ্ধার লাশ পাওয়া গেছে।

-জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরদান বলেছেন, ইসরায়েল থেকে অপহরণের পর গাজায় ‘১০০ থেকে ১৫০ জনকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে।’

-সোমবার সন্ধ্যায় হামাস হুঁশিয়ারি দেয়, যদি ইসরায়েল কোনো সতর্কতা ছাড়া বিমান হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে তারা ইসরায়েল থেকে আটক করা জিম্মিদের হত্যা করবে। তাদের এই হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পশ্চিমা নেতারা।

-যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জিম্মিদের নিয়ে আলোচনায় যাবে না বলে জানিয়েছে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান ইসমাইল হানিয়াহ।

-রাতভর হামাসের অন্তত ২০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের বিমানবাহিনী। গাজা সীমান্তে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ৩৫টি ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হয়েছে।

-গাজা উপত্যকাজুড়ে এক লাখ ৮৭ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এই সংখ্যা আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের ৮৩টি স্কুলে এক লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ মানুষকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

-ইউনিসেফ গাজার ভেতরে ও বাইরে একটি মানবিক করিডোর স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে। কারণ ইসরায়েল জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে গাজার হাসপাতালগুলো।

-গাজার জ্বালানি কয়েক দিনের মধ্যে ফুরিয়ে যেতে পারে, এতে বিদ্যুতের অভাবে অন্ধকারে ডুবে যেতে পারে গাজা উপত্যকা : জাতিসংঘ

-ইসরায়েলি বোমা হামলার কারণে মিসরের রাফাহ ক্রসিং বন্ধ হয়ে গেছে। এটাই অবরুদ্ধ গাজা থেকে মানুষের বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ। এ ছাড়া ইসরায়েলও গাজার সঙ্গে তাদের সীমানা বন্ধ করে দিয়েছে। ইসরায়েল ফিলিস্তিনের মধ্যে সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে এমন উদ্বেগের কারণে তেলের দাম বেড়ে গেছে।