ঢাকা ০৪:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
৬০ টাকার নিচে মিলছে না সবজি

মুখ খুললেন জামায়াতের আমীর

আজকের প্রত্রিকাগুলোর প্রধান প্রধান সংবাদ:

মানবজমিন:

মুখ খুললেন জামায়াতের আমীর
দীর্ঘ দেড় দশক ধরে কঠিন সময় কাটাচ্ছে জামায়াত। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসি হয়েছে প্রায় সব শীর্ষ নেতার। বাতিল হয়ে গেছে নিবন্ধন। স্বাভাবিক রাজনীতিও কার্যত নিষিদ্ধ। কার্যালয়গুলো তালাবদ্ধ। এই পরিস্থিতিতে জামায়াতের আমীরের দায়িত্ব পালন করছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনিও দীর্ঘদিন কারাভোগের পর গত মার্চে মুক্তি পান। এরপরই অংশ নিয়েছেন একাধিক ইফতার পার্টিতে। ছুটে গেছেন দেশের নানা প্রান্তে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকই মনে করেন বাংলাদেশের চলমান বাস্তবতায় জামায়াতের রাজনীতির ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে।

ডা. শফিকুর রহমান অবশ্য তা মানতে নারাজ। তার বিশ্বাস জামায়াত ঘুরে দাঁড়াবে। গেল নির্বাচন বর্জনে বিরোধী দলগুলোর সিদ্ধান্ত সঠিক বলেও মনে করেন তিনি। জোটবদ্ধ আন্দোলনের ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি। মানবজমিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা কথা বলেছেন নানা ইস্যুতে।

দৈনিক সংগ্রাম:

তথাকথিত উপজেলা নির্বাচন বর্জন করুন, ভোট কেন্দ্রে যাবেন না

উপজেলা নির্বাচন বর্জন করার পাশাপাশি জনগণকেও বিরত থাকতে উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার বিকালে এক সাংবাদিক সম্মেলনে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে দলের অবস্থান পরিষ্কার করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই আহ্বান জানান। তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, ভোট কেন্দ্রে যাবেন না। জনগণকেও বর্জন করতে উৎসাহিত করুন। গণতন্ত্রের পক্ষ নিন, জনগণের সঙ্গে থাকুন, জনগণকে সঙ্গে রাখুন। তথাকথিত উপজেলা নির্বাচন কিংবা কথিত নির্বাচনে অংশগ্রহণ এখন এই মুহূর্তে জরুরি বিষয় নয়।

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সকালে লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশবাসীকে উপজেলা নির্বাচনের যে আহ্বান জানিয়েছেন তা তুলে ধরেন রিজভী।

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে তারা ‘বিপথগামী’ বলে মন্তব্য করেছেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সব সময় যখন মানুষের স্রোত, মানুষের সমর্থন একদিকে থাকে, তখন দুই-একজন বিপথগামী লোক থাকেই। সেই বিপথগামী লোক নির্বাচন করতেই পারে এবং দল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

রিজভী বলেন, বিএনপি মহাসমুদ্রের মতো একটি দল, বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী আমাদের সমর্থন, বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী আমাদের। ওই রকম ভোট হরণের একটি দেশে যেখানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যারা ভোট বিশ্বাস করে না, সুষ্ঠু নির্বাচন বিশ্বাস করে না, তাদের অধীনে যারা নির্বাচনে করতে চায়, তারা তো মূর্খের স্বর্গে বাস করে।

রিজভী বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে কি পরিণতি হবে? এটা তো এই ১৬/১৭ বছরে দেখিয়ে দিয়েছে শেখ হাসিনা ও তার লোকেরা। যখন আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে তখন প্রতিদ্বন্দ্বীরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন, মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেছেন। কিন্তু জমা দিতে পারেনি, রাস্তার মধ্যে অ্যাটাক করা হয়েছে, রাস্তার মধ্যে শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। রিকশায় প্রচারণা চালাতে গেছে, সেই রিকশা ভেঙে ফেলা হয়েছে, মাইক ভেঙে ফেলা হয়েছে, এটা তো একটার পর একটা দৃষ্টান্ত।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, এখন দুই-একজন তো এরকম থাকতেই পারে। এটা তো হচ্ছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, এখানে এরকম দুই-একজন থাকতেই পারে। ৭ জানুয়ারির ডামি নির্বাচনে আমাদের দুই-একজন লোক তো সেখানেও গেছে, তাদেরকে জেতানোও হয়েছে। তাকে কি হয়েছে? ৯৫ শতাংশ ভোটাররা ভোট দিতে যায়নি, বিজয়ী হয়েছে বিএনপি, বিজয়ী হয়েছে বিএনপির সিদ্ধান্ত। বিএনপির ঘোষণা যেটা মানুষ এক্সসেপ্ট করবে, জনগণ এক্সসেপ্ট করবে সেটাই তো বিজয়ের ব্যাপার।

তারেক রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, তথাকথিত উপজেলা নির্বাচন বর্জন করুন। ভোট কেন্দ্রে যাবেন না। জনগণকেও বর্জন করতে উৎসাহিত করুন। গণতন্ত্রের পক্ষ নিন, জনগণের সঙ্গে থাকুন, জনগণকে সঙ্গে রাখুন। আওয়ামী অপশক্তি আপনাকে কিংবা আপনাদেরকে ভয় কিংবা প্রলোভন দিয়ে বিভ্রান্ত করতে চাইলেও দয়া করে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। তথাকথিত উপজেলা নির্বাচন কিংবা কথিত নির্বাচনে অংশগ্রহণ এখন এই মুহূর্তে জরুরি বিষয় নয়। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার শাসনামলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দীর্ঘায়িত প্রক্রিয়ায় অংশীদার হওয়ার চেয়ে আপনাদের স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার শাসনামলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দীর্ঘায়িত প্রক্রিয়ায় অংশীদার হওয়ার চেয়ে আপনাদের জন্য জনগণের ভালোবাসায় ধন্য হওয়া অনেক বেশি গৌরবের, অনেক বেশি সম্মানের।

রিজভী বলেন, সরকার রাষ্ট্র শক্তি দিয়ে আমাদেরকে মারছে, গুলী করছে, হত্যা করছে, জেলে নিয়ে যাচ্ছে কিন্তু তারপরও আমরা যেটা রাইট, যেটা সত্য তার পক্ষে আমরা আছি। ইতিহাস আমাদেরকে একদিন সেভাবে বিবেচনা করবেন। শুধু নির্বাচনে যাওয়া আর ওই তরকারির একটু ঝোল নেয়ার জন্য আওয়ামী লীগের কাছ থেকে, তো ওটাই কি বড় ব্যাপার হলো। নীতি-নৈতিকতা-আর্দশ বলে জায়গা নাই।

তৃণমূল্যের অনেকে উপজেলা নির্বাচনে যাচ্ছে এরকম প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, তৃণমূলের কত লোক, কত নেতা সম্পর্কে আপনার ধারণা আছে। আমাদের কত নেতা তৃণমূলে আপনি বলুন দেখি? আমাদের তো ৫০ লক্ষ নেতা-কর্মীর নামে মামলা, এর বাইরেও তো আমাদের নেতা-কর্মী আছে।

যারা উপজেলা নির্বাচনে যাচ্ছে তাদেরকে বহিষ্কার করা হচ্ছে জানিয়ে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, দল তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তাদেরকে বলা হচ্ছে, প্রত্যাহার করো, অনেকে প্রত্যাহার করছে। এই মুহূর্তের যে সিদ্ধান্ত সেই সিদ্ধান্তের বাইরে যারা যাচ্ছে তারা দলের লোক নয়। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। শোকজ করা হচ্ছে, সোকজের উত্তর যারা দিতে পারছে যে, না আমরা প্রত্যাহার করছি, সেটা আমরা মেনে নিচ্ছি, তাদের প্রত্যাহারের আদেশ তুলে নিচ্ছি। এরকম যে কয়টা হয়েছে তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছি। অফিশিয়াল প্রত্যাহারের পরেও যারা সংবাদ সম্মেলন করে প্রত্যাহার করছে তাদেরও প্রত্যাহার করেছি। নিজেদের দলের নেতা-কর্মী, এতো নিষ্ঠুর হবো কেনো?

তিনি বলেন, আমাদের বুঝতে হবে যেখানে সিদ্ধান্ত রয়েছে সেখানে এতো নেতা-কর্মী কারাগারে, যখন আমাদের কিছু নেতা বেরিয়ে আসছে তারা নিপীড়ন-নির্যাতন, প্রতিদিন মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে যাচ্ছে, আর তারা যদি নির্বাচনের আনন্দে মেতে যায়, নিশ্চয় দলের আদর্শ-নীতি তারা মানে না।

রিজভী বলেন, বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যায়নি। বরং বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে গণতন্ত্রকামী মানুষের হৃদয়ে বিএনপি জায়গা করে নিয়েছে। বিএনপির সর্বস্তরের প্রতিটি নেতাকর্মী-শুভার্থী-সমর্থক তথা আপনাদের শ্রম-ঘাম-মেধা-ত্যাগ-তিতিক্ষার কারণেই বিএনপি এখন আর শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলই নয় বরং বাংলাদেশের প্রতিটি গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে বিএনপি এখন বিশ্বস্ত একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি’র স্বার্থের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে বাংলাদেশের স্বার্থ। বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে বিএনপির অস্তিত্ব। তাই দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে দেশ এবং জনগণের স্বার্থের প্রতি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতৃত্ব তথা বিএনপিকে প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ, জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।

সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জলবায়ু পরিবর্তন তহবিলের কোটি ডলার কোথায় জনগণ জানতে চায় : জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৈশ্বিকভাবে জলবায়ু তহবিল গঠন হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপি নেতারা বলেছেন, এই তহবিলের বিশাল একটা অর্থ বাংলাদেশের সরকারের কাছেও এসেছে। এই অঙ্কটা লাখ কোটি ডলার। এই টাকাটা কোথায়, জনগণ জানতে চায়। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মহানগর উত্তরের তুরাগ থানা বিএনপির পক্ষ থেকে খাবার পানি, স্যালাইন বিতরণ কর্মসূচিতে তারা এসব কথা বলেন। সারা দেশে চলমান তীব্র তাপদাহে কারণে নগরীর পথচারীদের মাঝে পানি ও স্যালাইন বিতরণ করা হয়।

বনিক বার্তা:

বিদ্যুতে ভর্তুকির ৮১ শতাংশই ক্যাপাসিটি চার্জ
উৎপাদন খরচের চেয়ে কম মূল্যে বিদ্যুৎ বিক্রি করায় প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ আর্থিক ঘাটতিতে পড়তে হচ্ছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (বিপিডিবি)। এ ঘাটতি মেটাতে সংস্থাটিকে প্রতি বছর ভর্তুকি হিসেবে বড় অংকের অর্থ দিচ্ছে সরকার। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি ধরা হয়েছে ৩৯ হাজার ৪০৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভাড়া বাবদ (কাপাসিটি চার্জ) ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩২ হাজার কোটি টাকার বেশি। তা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিদ্যুৎ খাতের জন্য দেয়া ভর্তুকির ৮১ শতাংশই ব্যয় হয়ে যাচ্ছে ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জের এ প্রাক্কলন যদিও বিপিডিবির সাময়িক হিসাব। সংস্থাটির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, যখন এ প্রাক্কলন করা হয়েছিল, তখন গ্যাসভিত্তিক বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে আসেনি। ফলে অর্থবছর শেষে এ বাবদ ব্যয় প্রাক্কলিত অর্থের বেশি কিংবা কমও হতে পারে।

দেশে গ্যাসভিত্তিক বৃহৎ দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্প্রতি উৎপাদনে এসেছে। নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটে সামিট ও ইউনিক গ্রুপের এ দুটি কেন্দ্রের সক্ষমতা ১ হাজার ১৬৭ মেগাওয়াট। ওই এলাকায় রিলায়েন্সেরও একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনের অপেক্ষায় রয়েছে। কেন্দ্রটির সক্ষমতা ৭১৮ মেগাওয়াট, যা যুক্ত হলে কেন্দ্র ভাড়া বাবদ ব্যয় আরো বেড়ে যাবে বিপিডিবির।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুতে ভর্তুকি হিসাবে প্রতি বছর যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ হয় তার বড় অংশই ব্যয় হচ্ছে কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ। অন্যদিকে বছরে চার ধাপে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে আগামী তিন বছরের মধ্যে এ খাতের ভর্তুকি তুলে নেয়ার পরিকল্পনা সরকারের। তবে বিপিডিবির পক্ষে দাম বাড়িয়ে আর্থিক চাপ সামাল দেয়া সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় রয়েছে। কেননা দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি বছরই খরচ বাড়ছে। এর পেছনে কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ অন্যতম কারণ। পাশাপাশি এ খাতে অযৌক্তিক ব্যয়, দুর্নীতিসহ নানা কারণেও খরচ বাড়ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

যুগান্তর:

সুদহার বৃদ্ধিতে বৈষম্য আমানতকারীরা বঞ্চিত
বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক মন্দা এবং আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত বাস্তবায়নে সব ধরনের সুদের হার বেড়েছে। এ হার বৃদ্ধির কথা সমান্তরালভাবে, কিন্তু সেভাবে বাড়েনি। সাধারণ গ্রাহকদের নিরাপদ সঞ্চয়ের সুদ বেড়েছে অতি নগণ্য হারে। ঋণের সুদ বেড়েছে বেশি হারে। এর চেয়েও বেশি বেড়েছে সরকারি স্বল্পমেয়াদি ঋণের উপকরণ ট্রেজারি বিলের সুদ হার। আমানতকারীদের বেশির ভাগই ব্যাংকে সঞ্চয় করেন। এ খাতে সুদ হার একেবারেই কম বাড়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ঋণের সুদ বেশি বাড়ায় চাপের মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদ বেশি হারে বাড়ায় লাভবান হচ্ছে ব্যাংক, ফাইন্যান্স কোম্পানি ও বিমা কোম্পানিগুলো।

সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করলে পণ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে দাম বেড়ে যায়। এর প্রভাবে আমদানি ব্যয়ও বাড়ে। এতে ডলারের চাহিদা বাড়ায় দামও বাড়তে থাকে। এসব মিলে আন্তর্জাতিক বাজারে সুদ হার বাড়তে থাকে। এর প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। ২০২২ সালের শেষ দিকে ঋণের সুদ হার বাড়তে থাকে। ২০২৩ সালের জুলাই থেকে আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ঋণের সুদ হারের সীমা তুলে নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে সুদ হার পাগলা ঘোড়ার গতিতে বাড়তে থাকে। গত দুই বছরের ব্যবধানে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সরকারের স্বল্পমেয়াদি ঋণের উপকরণ ট্রেজারি বিলের সুদ। এর পরেই বেশি বেড়েছে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ঋণের উপকরণ ট্রেজারি বন্ডের সুদ হার। আলোচ্য সময়ে আমানতের সুদ হার বেড়েছে একেবারেই কম। ওই সময়ে সরকারের ঋণও বেড়েছে। যে কারণে সুদ হারও বেশি বাড়ছে।

নয়াদিগন্ত:

৬০ টাকার নিচে মিলছে না সবজি
কয়েক সপ্তাহ ধরে অস্থির সবজির বাজার। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও দাম কোনোভাবেই নাগালে আসছে না ক্রেতাদের। ৬০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো ধরনের সবজি। ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পেঁপের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি। মাছ-গোশতের দামও কমছে না। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি সজনে ডাঁটা ১৪০-১৮০ টাকা, বরবটি, কাঁকরোল, ঝিঙা ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পটোল আর ঢেঁড়স ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লম্বা বেগুন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা, গোল বেগুন ৭০-৮০ টাকা, টমেটো ৬০-৭০ টাকা, করলা ৮০-৯০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০-৮০ টাকা, মান ও সাইজভেদে লাউ ৬০-৮০ টাকা, শসা ৫০-৬০, ছোট আকারের মিষ্টিকুমড়া ১০০-১২০ টাকা, জালি ৫০-৬০ টাকা, পেঁপে ৭০-৮০, কাঁচা কলা প্রতি ডজন ৯০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি আলু ৫৫-৬০ টাকা, কাঁচামরিচ ১২০ টাকা, পেঁয়াজ ৬৫-৭৫ টাকা, রসুন ১৮০-২০০ টাকা, আদা ২০০-২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারভেদে দাম কিছুটা কমবেশি হচ্ছে। এ ছাড়াও শাকের মধ্যে পাটশাক ১৫-২০ টাকা, কলমিশাক ১০-১৫ টাকা, পালংশাক ১০-১৫ টাকা, লাউশাক ৩০-৪০ টাকা, লালশাক ১৫ টাকা, পুঁইশাক ৩০-৪০ টাকা আঁটি বিক্রি হচ্ছে।

অন্য দিকে বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে মাছ-গোশত। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০-২২০ টাকা। সোনালি মুরগি ৩২০-৩৫০ টাকা। আর বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে গরুর গোশত। মাঝখানে কিছুটা কমে ঈদের সময় আবারো বেড়ে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা হয়েছিল। এখনো সেই দামেই বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২০০ টাকা এবং ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের মাছ এক হাজার ৫০০ টাকা, চাষের এক কেজি শিং মাছ (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) হয়েছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, মাগুর মাছ ৯০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা, মৃগেল ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙ্গাস ২১০ থেকে ২৩০ টাকা, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা, বোয়াল মাছ ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা, কাতল ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়, পোয়া মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, কৈ মাছ ২২০ থেকে ২৪০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা এক হাজার ৬০০ টাকা, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাঁচকি মাছ ৬০০ টাকা, পাঁচমিশালি মাছ ২২০ টাকা, রূপচাঁদা এক হাজার ২০০ টাকা, বাইম মাছ এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা, দেশী কই এক হাজার ২০০ টাকা, মেনি মাছ ৭০০ টাকা, সোল মাছ ৬০০ থেকে এক হাজার টাকা, আইড় মাছ ৭০০ থেকে এক হাজার টাকা, বেলে মাছ ৭০০ টাকা এবং কাইক্কা মাছ ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ দিকে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বেড়েছে সব ধরনের মসলার দাম। বাজারে এলাচ, জিরা, দারুচিনি, রসুন, সয়াবিন তেল, পেঁয়াজ, হলুদ ও আদাসহ বেশির ভাগ মসলার দামই বেড়েছে।
এপ্রিল মাসের শুরুতে ঢাকার বাজারে যে রসুনের কেজি ছিল ১৩০ টাকা, শুক্রবার তা ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। এক মাস আগে খুচরা বাজারে যে দেশী আদা ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, তা এখন ৪৫০ টাকা। আর আমদানি করা আদা বিক্রি হচ্ছে ২৪০-২৫০ টাকা; যা এক মাস আগেও ২২০ টাকা ছিল। বাজারে বেড়েছে মসলার গুরুত্বপূর্ণ আরেক অনুষঙ্গ জিরার দামও। রোজার ঈদের আগে যে জিরা প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৮০ থেকে ৮৫০ টাকায়।

প্রথম আলো:

উত্তরাধিকার বসাতে মরিয়া মন্ত্রী–সংসদ সদস্যরা
● তিন ধাপের নির্বাচনে অন্তত নয়জন সন্তান চেয়ারম্যান প্রার্থী। ● প্রার্থী আছেন একজন সংসদ সদস্যের বাবা ও আরেকজনের স্ত্রী। ● প্রার্থী হওয়ায় এগিয়ে ভাইয়েরা; শ্যালক, চাচাতো ভাই, ভাতিজার তালিকা দীর্ঘ। ● দুজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ার পথে।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

তিন ধাপে মন্ত্রী–সংসদ সদস্যদের ৫২ জন সন্তান, নিকটাত্মীয় ও স্বজন প্রার্থী রয়েছেন। শাস্তি দেওয়ার প্রশ্নে দলের শীর্ষ পর্যায়ে নমনীয়তার ইঙ্গিত।

 

দলীয় নির্দেশ অমান্য করে মন্ত্রী–সংসদ সদস্যদের অনেকে উপজেলায় উত্তরাধিকার বসাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনের তিন ধাপেই তাঁদের সন্তান, নিকটাত্মীয় ও স্বজনদের ৫২ জন প্রার্থী রয়েছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাদের কেউ কেউ মনে করছেন, সংসদ সদস্যদের অনেকে ক্ষমতা নিজের হাতে ধরে রাখতে সন্তান বা নিকটাত্মীয়দের ভোটের মাঠে নামিয়েছেন।

স্বজনেরা ভোট থেকে সরে না দাঁড়ালে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল আওয়ামী লীগ। শেষ পর্যন্ত স্বজনদের ঠেকানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এমন বাস্তবতায় শাস্তি দেওয়ার

উত্তরাধিকার বসাতে মরিয়া মন্ত্রী–সংসদ সদস্যরা

প্রশ্নে দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্যে কিছুটা নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

প্রথম আলোর প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, উপজেলা নির্বাচনের প্রথম তিন ধাপে মন্ত্রী-সংসদ সদস্যের অন্তত ৫২ জন স্বজন চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ার পথে। গত বৃহস্পতিবার তৃতীয় ধাপের মনোনয়নপত্র জমা শেষ হয়। প্রথম আলোর প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় ধাপেই মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের ১৮ জন স্বজন প্রার্থী হয়েছেন। তিন ধাপের নির্বাচনে অন্তত নয়জন সন্তান চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন। একজনের বাবা ও একজনের স্ত্রী প্রার্থী হয়েছেন। ১৩ জন আপন ভাই চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। বাকিরা সম্পর্কে চাচা, চাচাতো ভাই, ভাতিজা, শ্যালক ও ভগ্নিপতি।

স্বজনের সংজ্ঞা নিয়ে শুরুতে আওয়ামী লীগের নির্দেশনায় ধোঁয়াশা ছিল। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নিকটাত্মীয় হিসেবে সন্তান ও স্ত্রীকে বোঝানো হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও গতকাল সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, স্বজন বলতে প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্টভাবে সন্তান ও স্ত্রীকে বুঝিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, উপজেলা নির্বাচনে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ও প্রভাব বিস্তার করা যাবে না। প্রধানমন্ত্রী তা পরিষ্কারভাবে বলেছেন।

কিন্তু স্বজন বলতে আওয়ামী লীগ এখন যে পরিবারকেন্দ্রিক ব্যাখ্যা দিয়েছে, তাতেও দেখা যাচ্ছে মন্ত্রী–সংসদ সদস্যদের অন্তত নয়জনের সন্তান এবং একজনের স্ত্রী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী রয়েছেন। তাঁদের ব্যাপারেও আওয়ামী লীগ শেষ পর্যন্ত কতটা কঠোর হতে পারবে, দলটির ভেতরেই সেই আলোচনা রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলটির কেন্দ্রীয় একজন নেতা প্রথম আলোকে বলেন, শাস্তির প্রশ্নে দলের নেতাদের বক্তব্যে কিছুটা নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, সংসদ সদস্যরা রাজনীতি করেন। রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যকে ভোট করতে বাধা দেবেন কীভাবে? আসলে দলের স্থানীয় অন্য নেতারাও যাতে সুযোগ পান, সে জন্যই ওই সব নির্দেশনা এসেছিল। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, স্বজনদের ভোট করতে না দেওয়ার ব্যাপারে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠকে কখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। মৌখিকভাবে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

বাংলাদেশ প্রতিদিন:

ডিজিটালাইজেশনে হিমশিম
ইলেকট্রনিক নিরাপত্তায় বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে উগান্ডা নাইজেরিয়া

দেশ ডিজিটালাইজেশনের পথে যাত্রা করে প্রায় দেড় যুগ আগে। কথা ছিল ২০২১ সালের মধ্যে সব সরকারি সেবা যে কোনো স্থান থেকে সহজে, স্বচ্ছভাবে, কম খরচে ও কম সময়ে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পাওয়া যাবে। বাংলাদেশের ডিজিটাল যাত্রায় সুফলও এসেছে। হাতে হাতে এখন মোবাইল। ঘরে বসে অনলাইনে করা যাচ্ছে কেনাকাটা। লেনদেন হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইনে। ৯৯৯-এ ফোন করলেই মিলছে নানা সহায়তা। তবে ২০২৪ সালে এসেও এখনো অধিকাংশ সরকারি সেবা পেতে হাজির হতে হচ্ছে সশরীরে। এনআইডি থাকা সত্ত্বেও ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আঙুলের ছাপ দিতে যেতে হচ্ছে বিআরটিএ অফিসে। ধীরগতির ইন্টারনেট লাগাম টানছে ডিজিটাল উন্নয়নের। আধুনিক টোল প্লাজায় টোল দিতে হচ্ছে হাতে হাতে। এনআইডি সার্ভার থেকে ফাঁস হয়ে যাচ্ছে নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য। ব্যাংক থেকে গায়েব হয়ে যাচ্ছে গ্রাহকের টাকা।

এদিকে সরকারি সেবা ডিজিটাল করতে গত এক দশকে শুধু অবকাঠামো তৈরিতেই বিনিয়োগ হয়েছে কয়েক লাখ কোটি টাকা। তবুও ডিজিটালাইজেশনে বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে দেশ। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সার্ফশার্ক প্রকাশিত ‘ডিজিটাল কোয়ালিটি অব লাইফ ইনডেক্স-২০২৩’ বা ডিজিটাল জীবনমান (ডিকিউএল) সূচকে ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে ছয় ধাপ অবনমন হয়েছে বাংলাদেশের। ১২১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮২তম। ২০২২ সালে ছিল ৭৬তম। এশিয়ার ৩৫ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২৫তম। ইন্টারনেট ব্যবহারের সামর্থ্য, ইন্টারনেটের মান, ই-অবকাঠামো, ই-নিরাপত্তা, ই-গভর্নমেন্ট এ পাঁচটি সূচকের ওপর ভিত্তি করে ডিকিউএল ইনডেক্স নির্ধারণ করে প্রতিষ্ঠানটি। এতে দেখা যায়, ইন্টারনেট ব্যবহারের সামর্থ্যে ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে ৪৮ ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। ইলেকট্র্রনিক নিরাপত্তায় পিছিয়েছে ১০ ধাপ। তবে এক ধাপ উন্নতি হয়েছে ইলেকট্র্রনিক অবকাঠামোয়। ১৩ ধাপ উন্নতি হয়েছে ই-গভর্নমেন্টে, দুই ধাপ উন্নতি হয়েছে ইন্টারনেটের মানে। তবে উন্নতির পরও ইন্টারনেটের গতিতে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের পেছনে বাংলাদেশের অবস্থান।

ডিজিটাল জীবনমান (ডিকিউএল) সূচকে ১ নম্বরে রয়েছে ফ্রান্স, ২ নম্বরে ফিনল্যান্ড, ৩ নম্বরে ডেনমার্ক, ৪ নম্বরে জার্মানি, ৫ নম্বরে লুক্সেমার্গ, ৬ নম্বরে স্পেন, ৭ নম্বরে এস্তোনিয়া, ৮ নম্বরে অস্ট্রিয়া, ৯ নম্বরে সুইজারল্যান্ড এবং ১০ নম্বরে সিঙ্গাপুর। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া ২০তম, জাপান ১৬তম, সাইপ্রাস ৩১তম, মালয়েশিয়া ৩৭তম, সংযুক্ত আরব আমিরাত ৩৮তম, চীন ৪৪তম, সৌদি আরব ৪৫তম, কাজাখস্তান ৪৭তম, কাতার ৪৮তম, থাইল্যান্ড ৫১তম, ভারত ৫২তম, ভিয়েতনাম ৫৬তম, ফিলিপাইন ৬০তম, কিরগিজস্তান ৭১তম, বাংলাদেশ ৮২তম, শ্রীলঙ্কা ৮৬তম, পাকিস্তান ৯৩তম, নেপাল ৯৪তম অবস্থানে রয়েছে।
ডিকিউএল সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অবশ্য ভারতের পরপরই রয়েছে বাংলাদেশের অবস্থান। তবে ইন্টারনেট ক্রয়ক্ষমতা, ইন্টারনেটের মান, ইলেকট্র্রনিক অবকাঠামো, ইলেকট্র্রনিক নিরাপত্তা ও ইলেকট্র্রনিক গভর্নমেন্ট সূচকগুলোর মধ্যে শুধু ইলেকট্র্রনিক অবকাঠামোতে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলো থেকে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। অবশ্য সব সূচকে বিশ্বের গড় মানের চেয়ে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। সবচেয়ে পিছিয়ে ইলেকট্র্রনিক নিরাপত্তায়। দক্ষিণ এশিয়ায় ইলেকট্র্রনিক অবকাঠামোয় প্রথম বাংলাদেশ, ইন্টারনেট ক্রয়ক্ষমতায় প্রথম শ্রীলঙ্কা, ইন্টারনেট মান, ইলেকট্র্রনিক নিরাপত্তা ও ই-গভর্নমেন্টে প্রথমে রয়েছে ভারত। এদিকে পশ্চিম আফ্রিকার দরিদ্র দেশ নাইজেরিয়া ইন্টারনেটের মান (৬২তম) ও ইলেকট্র্রনিক নিরাপত্তায় (৭৩তম) এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ থেকে। এ দুটি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান যথাক্রমে ৬৫তম ও ৮৫তম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশকে ডিজিটাল করতে হার্ডওয়্যার ক্রয়ের মাধ্যমে ইলেকট্র্রনিক অবকাঠামো উন্নয়নে একের পর এক প্রকল্প গ্রহণ করে প্রচুর ব্যয় করা হলেও অন্যান্য খাতগুলোয় মনোযোগ দেওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদিচ্ছা থাকলেও বাস্তবায়নের দায়িত্বে যারা আছেন তারা লুটপাটে ব্যস্ত। ফলে কাক্সিক্ষত সুফল আসছে না। এখনো ইন্টারনেটের মান খুবই খারাপ, আবার দামও বেশি। তৈরি হচ্ছে না কারিগরিভাবে দক্ষ জনবল। ঘরে-বাইরে সব জায়গায় বসে কাজের সুবিধার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের ল্যাপটপ সরবরাহ করা হলেও তাদের টেবিল থেকে ফাইলের স্তূপ সরছে না। সরকারি অফিসে অধিকাংশ কাজই এখনো ম্যানুয়ালি চলে। পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন, জন্ম নিবন্ধন, এনআইডি সংশোধনসহ নানা কাজে হাজির হতে হয় সশরীরে। কোনো হাসপাতালের শয্যার তথ্য অনলাইনে পাওয়া যায় না। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে জালিয়াত চক্র মানুষের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। অনলাইনে প্রতারণা বাড়ছে। ডিজিটাল ডেটাবেজের সুষ্ঠু ব্যবহার না করায় করের আওতায় আসেনি অধিকাংশ মানুষ। ডিজিটাল মাধ্যমে নিরাপত্তার বিষয় সবচেয়ে অবহেলিত। গত বছরের জুলাই মাসে রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়ের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ওয়েবসাইট থেকে তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটে। এরপর টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন সোশ্যাল অ্যাপে এনআইডির তথ্য ফাঁস হয়। এগুলো ডিজিটালাইজেশনের চরম দুর্বল দিক। আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্লোগান নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর সরকারের সব অফিস ও দফতর ‘ডিজিটাল’ করার উদ্যোগ নেয়। মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে কেনাকাটা ও প্রকল্প গ্রহণের হিড়িক পড়ে। তবে এখন পর্যন্ত একটি মন্ত্রণালয় বা দফতর পুরোপুরি ডিজিটাল হতে পারেনি। অন্যদিকে ২০১৪ সালে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং দেশটিকে ‘বিশ্বের প্রথম স্মার্ট নেশন’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। ২০২১ সালেই স্মার্ট শহরের সূচকে (IMD-SUTD Smart City Index) সিঙ্গাপুরের অবস্থান ছিল বিশ্বে সবার ওপরে। ডিজিটাল ব্যবস্থায় ৯৯ শতাংশ সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে দেশটি।

কালের কন্ঠ:

ট্রেনে হতাহত বাড়ছে, বীমা-ক্ষতিপূরণ নেই
খোমুখি ট্রেন সংঘর্ষ। ঘড়িতে তখন সকাল ১০টা ৫০ মিনিট। দুর্ঘটনাস্থল গাজীপুরের জয়দেবপুরের আউটার স্টেশন। এলাকার নাম ছোট দেওড়া।

ঢাকার দিকে যাচ্ছিল টাঙ্গাইল কমিউটার ট্রেন। উল্টো পথে আসে একটি তেলবাহী ট্রেন। এতে অন্তত ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়। দুমড়েমুচড়ে যায় বগির একাংশ।

কমিউটার ট্রেন সাধারণত যাত্রীতে ভরপুর থাকে। কিন্তু গতকাল শুক্রবার ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় যাত্রীবিহীন ছিল। পথে যাত্রাবিরতির সময় দু-একজন উঠে থাকতে পারে। ফলে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো গেছে।

তবে এমন পরিস্থিতি তো সব সময় থাকে না। গত চার বছরে ট্রেন দুর্ঘটনায় এক হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। অথচ জানমালের ক্ষতিপূরণ নিয়ে কথা হচ্ছে না।
দেশের পরিবহনব্যবস্থায় বাস, বিমান ও নৌযান—তিন খাতেই যানের জন্য বীমার প্রচলন রয়েছে। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ পান পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিমানে যাত্রীর জন্য বীমা এবং বাসে যাত্রীর জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে, কিন্তু নৌযানে যাত্রীর জন্য কোনোটিই নেই। সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ক্ষতিপূরণে সরকারের সুনির্দিষ্ট আর্থিক তহবিল রয়েছে। অথচ রেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহনে কোনো ধরনের বীমার ব্যবস্থা নেই। ফলে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্ট পরিবহন প্রতিষ্ঠান হিসেবে রেল কর্তৃপক্ষ কোনো ক্ষতিপূরণ পায় না। এমনকি যাত্রীর ক্ষতিপূরণ বাবদ সরকারের বরাদ্দ করা আর্থিক তহবিল নেই।
রেলে দুর্ঘটনা সড়কের তুলনায় কম, এটা ঠিক। হতাহতের সংখ্যাও সড়কের তুলনায় অনেক কম। কিন্তু ট্রেন দুর্ঘটনা বাড়ছে। বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। স্থায়ীভাবে পঙ্গু হচ্ছে অনেকে। অগ্নিসংযোগের মতো নাশকতার ঘটনায় জানমালের ঝুঁকি বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সংগত কারণেই প্রশ্ন ওঠে, ট্রেন দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ নেই কেন?

২০১৯ সালে বীমা করার পরিকল্পনা করেছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে। সেটি আগায়নি। রেলওয়ে এখনো ১৮৯০ সালের আইনে পরিচালিত হচ্ছে। বহু বছর আগের আইন বর্তমানের সঙ্গে কতটা মানানসই, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

নতুন করে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ প্রণয়ন করে সরকার। সেই আইনের বিধিমালার মধ্য দিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আর্থিক তহবিল তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু রেলের আইন অনেক পুরনো হওয়ায় সেই সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে আইনের সংশোধন জরুরি। নতুন আইনের মধ্য দিয়ে রেল দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ তহবিল তৈরি করা যেতে পারে।

বীমা বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক আল মাহামুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্বের বহু দেশে গণপরিবহনে বীমার প্রচলন রয়েছে। আমাদের দেশে বীমাব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে এটি সম্ভব হচ্ছে না। আর্থিক খাতে ব্যাপক দুর্নীতির কারণে ব্যক্তিগত বীমার ওপর বিশ্বাস হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। আর জটিলতার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক বীমা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না। বীমাপ্রক্রিয়া আরো সহজ করা প্রয়োজন।’

সমকাল:

অপরিকল্পিত চার প্রকল্পে গচ্চা ৬৫ কোটি টাকা

নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে চারটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এর মধ্যে দুটি প্রকল্পের অবকাঠামো এক দিনও ব্যবহার হয়নি। আর বাকি দুটির কাজ শেষ হলেও এখন পরিত্যক্ত। অথচ এসব প্রকল্পে খরচ হয়ে গেছে ৬৫ কোটি টাকার বেশি, যার পুরোটাই গচ্চা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকল্পগুলো ছিল অপরিকল্পিত। এগুলোতে শুধু শুধু জনগণের করের টাকা অপচয় হয়েছে। তাই প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের দাবি, প্রকল্পগুলো পরিকল্পিতভাবেই হাতে নেওয়া হয়েছিল, নানা কারণে সফল হয়নি।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে– ৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বহদ্দারহাট থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত মেরিনার্স বাইপাস সড়ক নির্মাণ, ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে জাতিসংঘ পার্কে সুইমিংপুল ও জিমনেশিয়াম নির্মাণ, ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে জাকির হোসেন সড়কে চলন্ত সিঁড়ির ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ ও ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বিন্না ঘাস রোপণ প্রকল্প। এর মধ্যে মাঝপথে প্রকল্পের কাজ শেষ করায় মেরিনার্স সড়কে গাড়ি চলে না, সুইমিংপুল ও জিমনেশিয়াম ভেঙে করা হয়েছে পার্ক, আর ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ ও বিন্না ঘাস রোপণ প্রকল্প দুটি ঘোষণা করা হয়েছে পরিত্যক্ত। চারটি প্রকল্পে ৬৫ কোটি ২৮ টাকা ব্যয় হলেও নগরবাসী কোনো সুফল পাননি।

কালবেলা:

ফের বাড়ছে বিএনপির কারাবন্দি নেতাকর্মী
বিএনপির কারাবন্দি নেতাকর্মীর সংখ্যা আবারও বাড়ছে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে যেসব নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তাদের অধিকাংশ মুক্ত হলেও অনেককে নতুনভাবে কারাগারে যেতে হচ্ছে। ঈদুল ফিতরের আগে এবং সম্প্রতি শতাধিক নেতাকর্মী ফের কারাগারে গেছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়। কেউ কেউ আছেন একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। অনেককে বিভিন্ন মামলায় আটকের পর গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে বলে বিএনপির অভিযোগ। সর্বশেষ সোমবার জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বিএনপির কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন অঙ্গসহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতা এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী কারাগারে গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে বন্দি আছেন কেউ কেউ।

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে যুগপৎভাবে লাগাতার আন্দোলনে নামে বিএনপি। মূলত ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের পর থেকে একদফা দাবিতে টানা হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচিতে যায় বিএনপিসহ সমমনা দল এবং জোটগুলো। এ আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলতে পারেনি তারা। একপর্যায়ে গত ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপিসহ ৬২টি রাজনৈতিক দল। ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে সারা দেশে ব্যাপক আন্দোলন করে বিএনপি। নানামুখী তৎপরতার পরও নির্বাচন ঠেকাতে না পারা বিএনপির আন্দোলনে ভাটা পড়ে। সেই থেকে ধীরে চলছে বিএনপি। নেই রাজপথের কঠোর কোনো কর্মসূচি। সম্প্রতি দলীয় কিছু কর্মসূচিতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাধা দিয়েছে বলে দলটির অভিযোগ। বিএনপি নেতারা বলছেন, রাজপথে জোরালো কর্মসূচি না থাকা সত্ত্বেও পুরোনো মামলায় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও সাজার ঘটনা দলের নীতিনির্ধারকদের ভাবিয়ে তুলছে জানা গেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, বিরোধী দলকে দমনের জন্য হামলা-মামলা ও গুলিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে সরকার। এটা সবাই জানেন যে, গত বছরের ২৮ অক্টোবর সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কীভাবে আমাদের নিরীহ ও নিরস্ত্র নেতাকর্মীদের ওপর টিয়ার গ্যাসের শেল ছুড়েছে। অনেকেই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সরকার কিন্তু বিরোধী দল দমনসহ বিএনপিকে ভাঙতে ষড়যন্ত্র করেই যাচ্ছে। মামলা-মোকদ্দমা আজও শেষ হয়নি। এখনো প্রতিদিন হাজার হাজার নেতাকর্মী দেশের বিভিন্ন কোর্টে হাজিরা দিচ্ছেন। নেতাকর্মীদের কারও বিরুদ্ধে ৩০০ থেকে ৫০০ পর্যন্ত মামলা আছে। গভীর রাতেও গ্রামে-গঞ্জে তৃণমূল নেতাকর্মীদের বাড়িতে গিয়ে হানা দেয় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল রাজধানীর গেণ্ডারিয়া থানার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির মকবুল ইসলাম টিপু, ওমর নবি বাবু, মাহবুবুর রহমান টিপু, রফিকুল ইসলাম ময়না, মোহাম্মদ রবিন, মোহাম্মদ সালেহ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর ও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই দিনে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান (ভিপি মিজান), জেলা বিএনপি নেতা মোহিতুর রহমান হেলাল, মাহমুদুর রহমান, স্বাগত কিশোর দাস চৌধুরীসহ ১৪ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া সম্প্রতি রাজধানীর জুরাইন থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি মনির মুন্সী, নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব বাবুসহ গাড়ি চালককে গোয়েন্দা পুলিশ কর্তৃক আটকের পরও অস্বীকার এবং মহানগর যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব শাহেদকে গোয়েন্দা পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ বিএনপির।

ট্যাগস :

বেনজীর আহমেদকে আর সময় দেওয়া হবে না: দুদকের আইনজীবী

৬০ টাকার নিচে মিলছে না সবজি

মুখ খুললেন জামায়াতের আমীর

আপডেট সময় ০৮:৪২:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ মে ২০২৪

আজকের প্রত্রিকাগুলোর প্রধান প্রধান সংবাদ:

মানবজমিন:

মুখ খুললেন জামায়াতের আমীর
দীর্ঘ দেড় দশক ধরে কঠিন সময় কাটাচ্ছে জামায়াত। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসি হয়েছে প্রায় সব শীর্ষ নেতার। বাতিল হয়ে গেছে নিবন্ধন। স্বাভাবিক রাজনীতিও কার্যত নিষিদ্ধ। কার্যালয়গুলো তালাবদ্ধ। এই পরিস্থিতিতে জামায়াতের আমীরের দায়িত্ব পালন করছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনিও দীর্ঘদিন কারাভোগের পর গত মার্চে মুক্তি পান। এরপরই অংশ নিয়েছেন একাধিক ইফতার পার্টিতে। ছুটে গেছেন দেশের নানা প্রান্তে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকই মনে করেন বাংলাদেশের চলমান বাস্তবতায় জামায়াতের রাজনীতির ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে।

ডা. শফিকুর রহমান অবশ্য তা মানতে নারাজ। তার বিশ্বাস জামায়াত ঘুরে দাঁড়াবে। গেল নির্বাচন বর্জনে বিরোধী দলগুলোর সিদ্ধান্ত সঠিক বলেও মনে করেন তিনি। জোটবদ্ধ আন্দোলনের ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি। মানবজমিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা কথা বলেছেন নানা ইস্যুতে।

দৈনিক সংগ্রাম:

তথাকথিত উপজেলা নির্বাচন বর্জন করুন, ভোট কেন্দ্রে যাবেন না

উপজেলা নির্বাচন বর্জন করার পাশাপাশি জনগণকেও বিরত থাকতে উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার বিকালে এক সাংবাদিক সম্মেলনে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে দলের অবস্থান পরিষ্কার করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই আহ্বান জানান। তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, ভোট কেন্দ্রে যাবেন না। জনগণকেও বর্জন করতে উৎসাহিত করুন। গণতন্ত্রের পক্ষ নিন, জনগণের সঙ্গে থাকুন, জনগণকে সঙ্গে রাখুন। তথাকথিত উপজেলা নির্বাচন কিংবা কথিত নির্বাচনে অংশগ্রহণ এখন এই মুহূর্তে জরুরি বিষয় নয়।

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সকালে লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশবাসীকে উপজেলা নির্বাচনের যে আহ্বান জানিয়েছেন তা তুলে ধরেন রিজভী।

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে তারা ‘বিপথগামী’ বলে মন্তব্য করেছেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সব সময় যখন মানুষের স্রোত, মানুষের সমর্থন একদিকে থাকে, তখন দুই-একজন বিপথগামী লোক থাকেই। সেই বিপথগামী লোক নির্বাচন করতেই পারে এবং দল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

রিজভী বলেন, বিএনপি মহাসমুদ্রের মতো একটি দল, বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী আমাদের সমর্থন, বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী আমাদের। ওই রকম ভোট হরণের একটি দেশে যেখানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যারা ভোট বিশ্বাস করে না, সুষ্ঠু নির্বাচন বিশ্বাস করে না, তাদের অধীনে যারা নির্বাচনে করতে চায়, তারা তো মূর্খের স্বর্গে বাস করে।

রিজভী বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে কি পরিণতি হবে? এটা তো এই ১৬/১৭ বছরে দেখিয়ে দিয়েছে শেখ হাসিনা ও তার লোকেরা। যখন আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে তখন প্রতিদ্বন্দ্বীরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন, মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেছেন। কিন্তু জমা দিতে পারেনি, রাস্তার মধ্যে অ্যাটাক করা হয়েছে, রাস্তার মধ্যে শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। রিকশায় প্রচারণা চালাতে গেছে, সেই রিকশা ভেঙে ফেলা হয়েছে, মাইক ভেঙে ফেলা হয়েছে, এটা তো একটার পর একটা দৃষ্টান্ত।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, এখন দুই-একজন তো এরকম থাকতেই পারে। এটা তো হচ্ছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, এখানে এরকম দুই-একজন থাকতেই পারে। ৭ জানুয়ারির ডামি নির্বাচনে আমাদের দুই-একজন লোক তো সেখানেও গেছে, তাদেরকে জেতানোও হয়েছে। তাকে কি হয়েছে? ৯৫ শতাংশ ভোটাররা ভোট দিতে যায়নি, বিজয়ী হয়েছে বিএনপি, বিজয়ী হয়েছে বিএনপির সিদ্ধান্ত। বিএনপির ঘোষণা যেটা মানুষ এক্সসেপ্ট করবে, জনগণ এক্সসেপ্ট করবে সেটাই তো বিজয়ের ব্যাপার।

তারেক রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, তথাকথিত উপজেলা নির্বাচন বর্জন করুন। ভোট কেন্দ্রে যাবেন না। জনগণকেও বর্জন করতে উৎসাহিত করুন। গণতন্ত্রের পক্ষ নিন, জনগণের সঙ্গে থাকুন, জনগণকে সঙ্গে রাখুন। আওয়ামী অপশক্তি আপনাকে কিংবা আপনাদেরকে ভয় কিংবা প্রলোভন দিয়ে বিভ্রান্ত করতে চাইলেও দয়া করে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। তথাকথিত উপজেলা নির্বাচন কিংবা কথিত নির্বাচনে অংশগ্রহণ এখন এই মুহূর্তে জরুরি বিষয় নয়। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার শাসনামলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দীর্ঘায়িত প্রক্রিয়ায় অংশীদার হওয়ার চেয়ে আপনাদের স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার শাসনামলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দীর্ঘায়িত প্রক্রিয়ায় অংশীদার হওয়ার চেয়ে আপনাদের জন্য জনগণের ভালোবাসায় ধন্য হওয়া অনেক বেশি গৌরবের, অনেক বেশি সম্মানের।

রিজভী বলেন, সরকার রাষ্ট্র শক্তি দিয়ে আমাদেরকে মারছে, গুলী করছে, হত্যা করছে, জেলে নিয়ে যাচ্ছে কিন্তু তারপরও আমরা যেটা রাইট, যেটা সত্য তার পক্ষে আমরা আছি। ইতিহাস আমাদেরকে একদিন সেভাবে বিবেচনা করবেন। শুধু নির্বাচনে যাওয়া আর ওই তরকারির একটু ঝোল নেয়ার জন্য আওয়ামী লীগের কাছ থেকে, তো ওটাই কি বড় ব্যাপার হলো। নীতি-নৈতিকতা-আর্দশ বলে জায়গা নাই।

তৃণমূল্যের অনেকে উপজেলা নির্বাচনে যাচ্ছে এরকম প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, তৃণমূলের কত লোক, কত নেতা সম্পর্কে আপনার ধারণা আছে। আমাদের কত নেতা তৃণমূলে আপনি বলুন দেখি? আমাদের তো ৫০ লক্ষ নেতা-কর্মীর নামে মামলা, এর বাইরেও তো আমাদের নেতা-কর্মী আছে।

যারা উপজেলা নির্বাচনে যাচ্ছে তাদেরকে বহিষ্কার করা হচ্ছে জানিয়ে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, দল তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তাদেরকে বলা হচ্ছে, প্রত্যাহার করো, অনেকে প্রত্যাহার করছে। এই মুহূর্তের যে সিদ্ধান্ত সেই সিদ্ধান্তের বাইরে যারা যাচ্ছে তারা দলের লোক নয়। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। শোকজ করা হচ্ছে, সোকজের উত্তর যারা দিতে পারছে যে, না আমরা প্রত্যাহার করছি, সেটা আমরা মেনে নিচ্ছি, তাদের প্রত্যাহারের আদেশ তুলে নিচ্ছি। এরকম যে কয়টা হয়েছে তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছি। অফিশিয়াল প্রত্যাহারের পরেও যারা সংবাদ সম্মেলন করে প্রত্যাহার করছে তাদেরও প্রত্যাহার করেছি। নিজেদের দলের নেতা-কর্মী, এতো নিষ্ঠুর হবো কেনো?

তিনি বলেন, আমাদের বুঝতে হবে যেখানে সিদ্ধান্ত রয়েছে সেখানে এতো নেতা-কর্মী কারাগারে, যখন আমাদের কিছু নেতা বেরিয়ে আসছে তারা নিপীড়ন-নির্যাতন, প্রতিদিন মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে যাচ্ছে, আর তারা যদি নির্বাচনের আনন্দে মেতে যায়, নিশ্চয় দলের আদর্শ-নীতি তারা মানে না।

রিজভী বলেন, বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যায়নি। বরং বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে গণতন্ত্রকামী মানুষের হৃদয়ে বিএনপি জায়গা করে নিয়েছে। বিএনপির সর্বস্তরের প্রতিটি নেতাকর্মী-শুভার্থী-সমর্থক তথা আপনাদের শ্রম-ঘাম-মেধা-ত্যাগ-তিতিক্ষার কারণেই বিএনপি এখন আর শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলই নয় বরং বাংলাদেশের প্রতিটি গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে বিএনপি এখন বিশ্বস্ত একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি’র স্বার্থের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে বাংলাদেশের স্বার্থ। বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে বিএনপির অস্তিত্ব। তাই দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে দেশ এবং জনগণের স্বার্থের প্রতি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতৃত্ব তথা বিএনপিকে প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ, জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।

সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জলবায়ু পরিবর্তন তহবিলের কোটি ডলার কোথায় জনগণ জানতে চায় : জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৈশ্বিকভাবে জলবায়ু তহবিল গঠন হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপি নেতারা বলেছেন, এই তহবিলের বিশাল একটা অর্থ বাংলাদেশের সরকারের কাছেও এসেছে। এই অঙ্কটা লাখ কোটি ডলার। এই টাকাটা কোথায়, জনগণ জানতে চায়। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মহানগর উত্তরের তুরাগ থানা বিএনপির পক্ষ থেকে খাবার পানি, স্যালাইন বিতরণ কর্মসূচিতে তারা এসব কথা বলেন। সারা দেশে চলমান তীব্র তাপদাহে কারণে নগরীর পথচারীদের মাঝে পানি ও স্যালাইন বিতরণ করা হয়।

বনিক বার্তা:

বিদ্যুতে ভর্তুকির ৮১ শতাংশই ক্যাপাসিটি চার্জ
উৎপাদন খরচের চেয়ে কম মূল্যে বিদ্যুৎ বিক্রি করায় প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ আর্থিক ঘাটতিতে পড়তে হচ্ছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (বিপিডিবি)। এ ঘাটতি মেটাতে সংস্থাটিকে প্রতি বছর ভর্তুকি হিসেবে বড় অংকের অর্থ দিচ্ছে সরকার। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি ধরা হয়েছে ৩৯ হাজার ৪০৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভাড়া বাবদ (কাপাসিটি চার্জ) ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩২ হাজার কোটি টাকার বেশি। তা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিদ্যুৎ খাতের জন্য দেয়া ভর্তুকির ৮১ শতাংশই ব্যয় হয়ে যাচ্ছে ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জের এ প্রাক্কলন যদিও বিপিডিবির সাময়িক হিসাব। সংস্থাটির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, যখন এ প্রাক্কলন করা হয়েছিল, তখন গ্যাসভিত্তিক বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে আসেনি। ফলে অর্থবছর শেষে এ বাবদ ব্যয় প্রাক্কলিত অর্থের বেশি কিংবা কমও হতে পারে।

দেশে গ্যাসভিত্তিক বৃহৎ দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্প্রতি উৎপাদনে এসেছে। নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটে সামিট ও ইউনিক গ্রুপের এ দুটি কেন্দ্রের সক্ষমতা ১ হাজার ১৬৭ মেগাওয়াট। ওই এলাকায় রিলায়েন্সেরও একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনের অপেক্ষায় রয়েছে। কেন্দ্রটির সক্ষমতা ৭১৮ মেগাওয়াট, যা যুক্ত হলে কেন্দ্র ভাড়া বাবদ ব্যয় আরো বেড়ে যাবে বিপিডিবির।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুতে ভর্তুকি হিসাবে প্রতি বছর যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ হয় তার বড় অংশই ব্যয় হচ্ছে কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ। অন্যদিকে বছরে চার ধাপে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে আগামী তিন বছরের মধ্যে এ খাতের ভর্তুকি তুলে নেয়ার পরিকল্পনা সরকারের। তবে বিপিডিবির পক্ষে দাম বাড়িয়ে আর্থিক চাপ সামাল দেয়া সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় রয়েছে। কেননা দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি বছরই খরচ বাড়ছে। এর পেছনে কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ অন্যতম কারণ। পাশাপাশি এ খাতে অযৌক্তিক ব্যয়, দুর্নীতিসহ নানা কারণেও খরচ বাড়ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

যুগান্তর:

সুদহার বৃদ্ধিতে বৈষম্য আমানতকারীরা বঞ্চিত
বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক মন্দা এবং আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত বাস্তবায়নে সব ধরনের সুদের হার বেড়েছে। এ হার বৃদ্ধির কথা সমান্তরালভাবে, কিন্তু সেভাবে বাড়েনি। সাধারণ গ্রাহকদের নিরাপদ সঞ্চয়ের সুদ বেড়েছে অতি নগণ্য হারে। ঋণের সুদ বেড়েছে বেশি হারে। এর চেয়েও বেশি বেড়েছে সরকারি স্বল্পমেয়াদি ঋণের উপকরণ ট্রেজারি বিলের সুদ হার। আমানতকারীদের বেশির ভাগই ব্যাংকে সঞ্চয় করেন। এ খাতে সুদ হার একেবারেই কম বাড়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ঋণের সুদ বেশি বাড়ায় চাপের মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদ বেশি হারে বাড়ায় লাভবান হচ্ছে ব্যাংক, ফাইন্যান্স কোম্পানি ও বিমা কোম্পানিগুলো।

সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করলে পণ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে দাম বেড়ে যায়। এর প্রভাবে আমদানি ব্যয়ও বাড়ে। এতে ডলারের চাহিদা বাড়ায় দামও বাড়তে থাকে। এসব মিলে আন্তর্জাতিক বাজারে সুদ হার বাড়তে থাকে। এর প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। ২০২২ সালের শেষ দিকে ঋণের সুদ হার বাড়তে থাকে। ২০২৩ সালের জুলাই থেকে আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ঋণের সুদ হারের সীমা তুলে নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে সুদ হার পাগলা ঘোড়ার গতিতে বাড়তে থাকে। গত দুই বছরের ব্যবধানে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সরকারের স্বল্পমেয়াদি ঋণের উপকরণ ট্রেজারি বিলের সুদ। এর পরেই বেশি বেড়েছে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ঋণের উপকরণ ট্রেজারি বন্ডের সুদ হার। আলোচ্য সময়ে আমানতের সুদ হার বেড়েছে একেবারেই কম। ওই সময়ে সরকারের ঋণও বেড়েছে। যে কারণে সুদ হারও বেশি বাড়ছে।

নয়াদিগন্ত:

৬০ টাকার নিচে মিলছে না সবজি
কয়েক সপ্তাহ ধরে অস্থির সবজির বাজার। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও দাম কোনোভাবেই নাগালে আসছে না ক্রেতাদের। ৬০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো ধরনের সবজি। ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পেঁপের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি। মাছ-গোশতের দামও কমছে না। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি সজনে ডাঁটা ১৪০-১৮০ টাকা, বরবটি, কাঁকরোল, ঝিঙা ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পটোল আর ঢেঁড়স ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লম্বা বেগুন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা, গোল বেগুন ৭০-৮০ টাকা, টমেটো ৬০-৭০ টাকা, করলা ৮০-৯০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০-৮০ টাকা, মান ও সাইজভেদে লাউ ৬০-৮০ টাকা, শসা ৫০-৬০, ছোট আকারের মিষ্টিকুমড়া ১০০-১২০ টাকা, জালি ৫০-৬০ টাকা, পেঁপে ৭০-৮০, কাঁচা কলা প্রতি ডজন ৯০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি আলু ৫৫-৬০ টাকা, কাঁচামরিচ ১২০ টাকা, পেঁয়াজ ৬৫-৭৫ টাকা, রসুন ১৮০-২০০ টাকা, আদা ২০০-২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারভেদে দাম কিছুটা কমবেশি হচ্ছে। এ ছাড়াও শাকের মধ্যে পাটশাক ১৫-২০ টাকা, কলমিশাক ১০-১৫ টাকা, পালংশাক ১০-১৫ টাকা, লাউশাক ৩০-৪০ টাকা, লালশাক ১৫ টাকা, পুঁইশাক ৩০-৪০ টাকা আঁটি বিক্রি হচ্ছে।

অন্য দিকে বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে মাছ-গোশত। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০-২২০ টাকা। সোনালি মুরগি ৩২০-৩৫০ টাকা। আর বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে গরুর গোশত। মাঝখানে কিছুটা কমে ঈদের সময় আবারো বেড়ে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা হয়েছিল। এখনো সেই দামেই বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২০০ টাকা এবং ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের মাছ এক হাজার ৫০০ টাকা, চাষের এক কেজি শিং মাছ (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) হয়েছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, মাগুর মাছ ৯০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা, মৃগেল ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙ্গাস ২১০ থেকে ২৩০ টাকা, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা, বোয়াল মাছ ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা, কাতল ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়, পোয়া মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, কৈ মাছ ২২০ থেকে ২৪০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা এক হাজার ৬০০ টাকা, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাঁচকি মাছ ৬০০ টাকা, পাঁচমিশালি মাছ ২২০ টাকা, রূপচাঁদা এক হাজার ২০০ টাকা, বাইম মাছ এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা, দেশী কই এক হাজার ২০০ টাকা, মেনি মাছ ৭০০ টাকা, সোল মাছ ৬০০ থেকে এক হাজার টাকা, আইড় মাছ ৭০০ থেকে এক হাজার টাকা, বেলে মাছ ৭০০ টাকা এবং কাইক্কা মাছ ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ দিকে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বেড়েছে সব ধরনের মসলার দাম। বাজারে এলাচ, জিরা, দারুচিনি, রসুন, সয়াবিন তেল, পেঁয়াজ, হলুদ ও আদাসহ বেশির ভাগ মসলার দামই বেড়েছে।
এপ্রিল মাসের শুরুতে ঢাকার বাজারে যে রসুনের কেজি ছিল ১৩০ টাকা, শুক্রবার তা ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। এক মাস আগে খুচরা বাজারে যে দেশী আদা ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, তা এখন ৪৫০ টাকা। আর আমদানি করা আদা বিক্রি হচ্ছে ২৪০-২৫০ টাকা; যা এক মাস আগেও ২২০ টাকা ছিল। বাজারে বেড়েছে মসলার গুরুত্বপূর্ণ আরেক অনুষঙ্গ জিরার দামও। রোজার ঈদের আগে যে জিরা প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৮০ থেকে ৮৫০ টাকায়।

প্রথম আলো:

উত্তরাধিকার বসাতে মরিয়া মন্ত্রী–সংসদ সদস্যরা
● তিন ধাপের নির্বাচনে অন্তত নয়জন সন্তান চেয়ারম্যান প্রার্থী। ● প্রার্থী আছেন একজন সংসদ সদস্যের বাবা ও আরেকজনের স্ত্রী। ● প্রার্থী হওয়ায় এগিয়ে ভাইয়েরা; শ্যালক, চাচাতো ভাই, ভাতিজার তালিকা দীর্ঘ। ● দুজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ার পথে।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

তিন ধাপে মন্ত্রী–সংসদ সদস্যদের ৫২ জন সন্তান, নিকটাত্মীয় ও স্বজন প্রার্থী রয়েছেন। শাস্তি দেওয়ার প্রশ্নে দলের শীর্ষ পর্যায়ে নমনীয়তার ইঙ্গিত।

 

দলীয় নির্দেশ অমান্য করে মন্ত্রী–সংসদ সদস্যদের অনেকে উপজেলায় উত্তরাধিকার বসাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনের তিন ধাপেই তাঁদের সন্তান, নিকটাত্মীয় ও স্বজনদের ৫২ জন প্রার্থী রয়েছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাদের কেউ কেউ মনে করছেন, সংসদ সদস্যদের অনেকে ক্ষমতা নিজের হাতে ধরে রাখতে সন্তান বা নিকটাত্মীয়দের ভোটের মাঠে নামিয়েছেন।

স্বজনেরা ভোট থেকে সরে না দাঁড়ালে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল আওয়ামী লীগ। শেষ পর্যন্ত স্বজনদের ঠেকানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এমন বাস্তবতায় শাস্তি দেওয়ার

উত্তরাধিকার বসাতে মরিয়া মন্ত্রী–সংসদ সদস্যরা

প্রশ্নে দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্যে কিছুটা নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

প্রথম আলোর প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, উপজেলা নির্বাচনের প্রথম তিন ধাপে মন্ত্রী-সংসদ সদস্যের অন্তত ৫২ জন স্বজন চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ার পথে। গত বৃহস্পতিবার তৃতীয় ধাপের মনোনয়নপত্র জমা শেষ হয়। প্রথম আলোর প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় ধাপেই মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের ১৮ জন স্বজন প্রার্থী হয়েছেন। তিন ধাপের নির্বাচনে অন্তত নয়জন সন্তান চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন। একজনের বাবা ও একজনের স্ত্রী প্রার্থী হয়েছেন। ১৩ জন আপন ভাই চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। বাকিরা সম্পর্কে চাচা, চাচাতো ভাই, ভাতিজা, শ্যালক ও ভগ্নিপতি।

স্বজনের সংজ্ঞা নিয়ে শুরুতে আওয়ামী লীগের নির্দেশনায় ধোঁয়াশা ছিল। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নিকটাত্মীয় হিসেবে সন্তান ও স্ত্রীকে বোঝানো হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও গতকাল সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, স্বজন বলতে প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্টভাবে সন্তান ও স্ত্রীকে বুঝিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, উপজেলা নির্বাচনে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ও প্রভাব বিস্তার করা যাবে না। প্রধানমন্ত্রী তা পরিষ্কারভাবে বলেছেন।

কিন্তু স্বজন বলতে আওয়ামী লীগ এখন যে পরিবারকেন্দ্রিক ব্যাখ্যা দিয়েছে, তাতেও দেখা যাচ্ছে মন্ত্রী–সংসদ সদস্যদের অন্তত নয়জনের সন্তান এবং একজনের স্ত্রী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী রয়েছেন। তাঁদের ব্যাপারেও আওয়ামী লীগ শেষ পর্যন্ত কতটা কঠোর হতে পারবে, দলটির ভেতরেই সেই আলোচনা রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলটির কেন্দ্রীয় একজন নেতা প্রথম আলোকে বলেন, শাস্তির প্রশ্নে দলের নেতাদের বক্তব্যে কিছুটা নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, সংসদ সদস্যরা রাজনীতি করেন। রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যকে ভোট করতে বাধা দেবেন কীভাবে? আসলে দলের স্থানীয় অন্য নেতারাও যাতে সুযোগ পান, সে জন্যই ওই সব নির্দেশনা এসেছিল। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, স্বজনদের ভোট করতে না দেওয়ার ব্যাপারে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠকে কখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। মৌখিকভাবে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

বাংলাদেশ প্রতিদিন:

ডিজিটালাইজেশনে হিমশিম
ইলেকট্রনিক নিরাপত্তায় বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে উগান্ডা নাইজেরিয়া

দেশ ডিজিটালাইজেশনের পথে যাত্রা করে প্রায় দেড় যুগ আগে। কথা ছিল ২০২১ সালের মধ্যে সব সরকারি সেবা যে কোনো স্থান থেকে সহজে, স্বচ্ছভাবে, কম খরচে ও কম সময়ে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পাওয়া যাবে। বাংলাদেশের ডিজিটাল যাত্রায় সুফলও এসেছে। হাতে হাতে এখন মোবাইল। ঘরে বসে অনলাইনে করা যাচ্ছে কেনাকাটা। লেনদেন হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইনে। ৯৯৯-এ ফোন করলেই মিলছে নানা সহায়তা। তবে ২০২৪ সালে এসেও এখনো অধিকাংশ সরকারি সেবা পেতে হাজির হতে হচ্ছে সশরীরে। এনআইডি থাকা সত্ত্বেও ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আঙুলের ছাপ দিতে যেতে হচ্ছে বিআরটিএ অফিসে। ধীরগতির ইন্টারনেট লাগাম টানছে ডিজিটাল উন্নয়নের। আধুনিক টোল প্লাজায় টোল দিতে হচ্ছে হাতে হাতে। এনআইডি সার্ভার থেকে ফাঁস হয়ে যাচ্ছে নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য। ব্যাংক থেকে গায়েব হয়ে যাচ্ছে গ্রাহকের টাকা।

এদিকে সরকারি সেবা ডিজিটাল করতে গত এক দশকে শুধু অবকাঠামো তৈরিতেই বিনিয়োগ হয়েছে কয়েক লাখ কোটি টাকা। তবুও ডিজিটালাইজেশনে বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে দেশ। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সার্ফশার্ক প্রকাশিত ‘ডিজিটাল কোয়ালিটি অব লাইফ ইনডেক্স-২০২৩’ বা ডিজিটাল জীবনমান (ডিকিউএল) সূচকে ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে ছয় ধাপ অবনমন হয়েছে বাংলাদেশের। ১২১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮২তম। ২০২২ সালে ছিল ৭৬তম। এশিয়ার ৩৫ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২৫তম। ইন্টারনেট ব্যবহারের সামর্থ্য, ইন্টারনেটের মান, ই-অবকাঠামো, ই-নিরাপত্তা, ই-গভর্নমেন্ট এ পাঁচটি সূচকের ওপর ভিত্তি করে ডিকিউএল ইনডেক্স নির্ধারণ করে প্রতিষ্ঠানটি। এতে দেখা যায়, ইন্টারনেট ব্যবহারের সামর্থ্যে ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে ৪৮ ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। ইলেকট্র্রনিক নিরাপত্তায় পিছিয়েছে ১০ ধাপ। তবে এক ধাপ উন্নতি হয়েছে ইলেকট্র্রনিক অবকাঠামোয়। ১৩ ধাপ উন্নতি হয়েছে ই-গভর্নমেন্টে, দুই ধাপ উন্নতি হয়েছে ইন্টারনেটের মানে। তবে উন্নতির পরও ইন্টারনেটের গতিতে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের পেছনে বাংলাদেশের অবস্থান।

ডিজিটাল জীবনমান (ডিকিউএল) সূচকে ১ নম্বরে রয়েছে ফ্রান্স, ২ নম্বরে ফিনল্যান্ড, ৩ নম্বরে ডেনমার্ক, ৪ নম্বরে জার্মানি, ৫ নম্বরে লুক্সেমার্গ, ৬ নম্বরে স্পেন, ৭ নম্বরে এস্তোনিয়া, ৮ নম্বরে অস্ট্রিয়া, ৯ নম্বরে সুইজারল্যান্ড এবং ১০ নম্বরে সিঙ্গাপুর। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া ২০তম, জাপান ১৬তম, সাইপ্রাস ৩১তম, মালয়েশিয়া ৩৭তম, সংযুক্ত আরব আমিরাত ৩৮তম, চীন ৪৪তম, সৌদি আরব ৪৫তম, কাজাখস্তান ৪৭তম, কাতার ৪৮তম, থাইল্যান্ড ৫১তম, ভারত ৫২তম, ভিয়েতনাম ৫৬তম, ফিলিপাইন ৬০তম, কিরগিজস্তান ৭১তম, বাংলাদেশ ৮২তম, শ্রীলঙ্কা ৮৬তম, পাকিস্তান ৯৩তম, নেপাল ৯৪তম অবস্থানে রয়েছে।
ডিকিউএল সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অবশ্য ভারতের পরপরই রয়েছে বাংলাদেশের অবস্থান। তবে ইন্টারনেট ক্রয়ক্ষমতা, ইন্টারনেটের মান, ইলেকট্র্রনিক অবকাঠামো, ইলেকট্র্রনিক নিরাপত্তা ও ইলেকট্র্রনিক গভর্নমেন্ট সূচকগুলোর মধ্যে শুধু ইলেকট্র্রনিক অবকাঠামোতে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলো থেকে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। অবশ্য সব সূচকে বিশ্বের গড় মানের চেয়ে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। সবচেয়ে পিছিয়ে ইলেকট্র্রনিক নিরাপত্তায়। দক্ষিণ এশিয়ায় ইলেকট্র্রনিক অবকাঠামোয় প্রথম বাংলাদেশ, ইন্টারনেট ক্রয়ক্ষমতায় প্রথম শ্রীলঙ্কা, ইন্টারনেট মান, ইলেকট্র্রনিক নিরাপত্তা ও ই-গভর্নমেন্টে প্রথমে রয়েছে ভারত। এদিকে পশ্চিম আফ্রিকার দরিদ্র দেশ নাইজেরিয়া ইন্টারনেটের মান (৬২তম) ও ইলেকট্র্রনিক নিরাপত্তায় (৭৩তম) এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ থেকে। এ দুটি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান যথাক্রমে ৬৫তম ও ৮৫তম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশকে ডিজিটাল করতে হার্ডওয়্যার ক্রয়ের মাধ্যমে ইলেকট্র্রনিক অবকাঠামো উন্নয়নে একের পর এক প্রকল্প গ্রহণ করে প্রচুর ব্যয় করা হলেও অন্যান্য খাতগুলোয় মনোযোগ দেওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদিচ্ছা থাকলেও বাস্তবায়নের দায়িত্বে যারা আছেন তারা লুটপাটে ব্যস্ত। ফলে কাক্সিক্ষত সুফল আসছে না। এখনো ইন্টারনেটের মান খুবই খারাপ, আবার দামও বেশি। তৈরি হচ্ছে না কারিগরিভাবে দক্ষ জনবল। ঘরে-বাইরে সব জায়গায় বসে কাজের সুবিধার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের ল্যাপটপ সরবরাহ করা হলেও তাদের টেবিল থেকে ফাইলের স্তূপ সরছে না। সরকারি অফিসে অধিকাংশ কাজই এখনো ম্যানুয়ালি চলে। পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন, জন্ম নিবন্ধন, এনআইডি সংশোধনসহ নানা কাজে হাজির হতে হয় সশরীরে। কোনো হাসপাতালের শয্যার তথ্য অনলাইনে পাওয়া যায় না। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে জালিয়াত চক্র মানুষের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। অনলাইনে প্রতারণা বাড়ছে। ডিজিটাল ডেটাবেজের সুষ্ঠু ব্যবহার না করায় করের আওতায় আসেনি অধিকাংশ মানুষ। ডিজিটাল মাধ্যমে নিরাপত্তার বিষয় সবচেয়ে অবহেলিত। গত বছরের জুলাই মাসে রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়ের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ওয়েবসাইট থেকে তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটে। এরপর টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন সোশ্যাল অ্যাপে এনআইডির তথ্য ফাঁস হয়। এগুলো ডিজিটালাইজেশনের চরম দুর্বল দিক। আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্লোগান নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর সরকারের সব অফিস ও দফতর ‘ডিজিটাল’ করার উদ্যোগ নেয়। মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে কেনাকাটা ও প্রকল্প গ্রহণের হিড়িক পড়ে। তবে এখন পর্যন্ত একটি মন্ত্রণালয় বা দফতর পুরোপুরি ডিজিটাল হতে পারেনি। অন্যদিকে ২০১৪ সালে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং দেশটিকে ‘বিশ্বের প্রথম স্মার্ট নেশন’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। ২০২১ সালেই স্মার্ট শহরের সূচকে (IMD-SUTD Smart City Index) সিঙ্গাপুরের অবস্থান ছিল বিশ্বে সবার ওপরে। ডিজিটাল ব্যবস্থায় ৯৯ শতাংশ সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে দেশটি।

কালের কন্ঠ:

ট্রেনে হতাহত বাড়ছে, বীমা-ক্ষতিপূরণ নেই
খোমুখি ট্রেন সংঘর্ষ। ঘড়িতে তখন সকাল ১০টা ৫০ মিনিট। দুর্ঘটনাস্থল গাজীপুরের জয়দেবপুরের আউটার স্টেশন। এলাকার নাম ছোট দেওড়া।

ঢাকার দিকে যাচ্ছিল টাঙ্গাইল কমিউটার ট্রেন। উল্টো পথে আসে একটি তেলবাহী ট্রেন। এতে অন্তত ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়। দুমড়েমুচড়ে যায় বগির একাংশ।

কমিউটার ট্রেন সাধারণত যাত্রীতে ভরপুর থাকে। কিন্তু গতকাল শুক্রবার ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় যাত্রীবিহীন ছিল। পথে যাত্রাবিরতির সময় দু-একজন উঠে থাকতে পারে। ফলে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো গেছে।

তবে এমন পরিস্থিতি তো সব সময় থাকে না। গত চার বছরে ট্রেন দুর্ঘটনায় এক হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। অথচ জানমালের ক্ষতিপূরণ নিয়ে কথা হচ্ছে না।
দেশের পরিবহনব্যবস্থায় বাস, বিমান ও নৌযান—তিন খাতেই যানের জন্য বীমার প্রচলন রয়েছে। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ পান পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিমানে যাত্রীর জন্য বীমা এবং বাসে যাত্রীর জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে, কিন্তু নৌযানে যাত্রীর জন্য কোনোটিই নেই। সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ক্ষতিপূরণে সরকারের সুনির্দিষ্ট আর্থিক তহবিল রয়েছে। অথচ রেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহনে কোনো ধরনের বীমার ব্যবস্থা নেই। ফলে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্ট পরিবহন প্রতিষ্ঠান হিসেবে রেল কর্তৃপক্ষ কোনো ক্ষতিপূরণ পায় না। এমনকি যাত্রীর ক্ষতিপূরণ বাবদ সরকারের বরাদ্দ করা আর্থিক তহবিল নেই।
রেলে দুর্ঘটনা সড়কের তুলনায় কম, এটা ঠিক। হতাহতের সংখ্যাও সড়কের তুলনায় অনেক কম। কিন্তু ট্রেন দুর্ঘটনা বাড়ছে। বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। স্থায়ীভাবে পঙ্গু হচ্ছে অনেকে। অগ্নিসংযোগের মতো নাশকতার ঘটনায় জানমালের ঝুঁকি বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সংগত কারণেই প্রশ্ন ওঠে, ট্রেন দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ নেই কেন?

২০১৯ সালে বীমা করার পরিকল্পনা করেছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে। সেটি আগায়নি। রেলওয়ে এখনো ১৮৯০ সালের আইনে পরিচালিত হচ্ছে। বহু বছর আগের আইন বর্তমানের সঙ্গে কতটা মানানসই, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

নতুন করে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ প্রণয়ন করে সরকার। সেই আইনের বিধিমালার মধ্য দিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আর্থিক তহবিল তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু রেলের আইন অনেক পুরনো হওয়ায় সেই সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে আইনের সংশোধন জরুরি। নতুন আইনের মধ্য দিয়ে রেল দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ তহবিল তৈরি করা যেতে পারে।

বীমা বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক আল মাহামুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্বের বহু দেশে গণপরিবহনে বীমার প্রচলন রয়েছে। আমাদের দেশে বীমাব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে এটি সম্ভব হচ্ছে না। আর্থিক খাতে ব্যাপক দুর্নীতির কারণে ব্যক্তিগত বীমার ওপর বিশ্বাস হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। আর জটিলতার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক বীমা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না। বীমাপ্রক্রিয়া আরো সহজ করা প্রয়োজন।’

সমকাল:

অপরিকল্পিত চার প্রকল্পে গচ্চা ৬৫ কোটি টাকা

নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে চারটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এর মধ্যে দুটি প্রকল্পের অবকাঠামো এক দিনও ব্যবহার হয়নি। আর বাকি দুটির কাজ শেষ হলেও এখন পরিত্যক্ত। অথচ এসব প্রকল্পে খরচ হয়ে গেছে ৬৫ কোটি টাকার বেশি, যার পুরোটাই গচ্চা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকল্পগুলো ছিল অপরিকল্পিত। এগুলোতে শুধু শুধু জনগণের করের টাকা অপচয় হয়েছে। তাই প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের দাবি, প্রকল্পগুলো পরিকল্পিতভাবেই হাতে নেওয়া হয়েছিল, নানা কারণে সফল হয়নি।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে– ৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বহদ্দারহাট থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত মেরিনার্স বাইপাস সড়ক নির্মাণ, ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে জাতিসংঘ পার্কে সুইমিংপুল ও জিমনেশিয়াম নির্মাণ, ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে জাকির হোসেন সড়কে চলন্ত সিঁড়ির ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ ও ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বিন্না ঘাস রোপণ প্রকল্প। এর মধ্যে মাঝপথে প্রকল্পের কাজ শেষ করায় মেরিনার্স সড়কে গাড়ি চলে না, সুইমিংপুল ও জিমনেশিয়াম ভেঙে করা হয়েছে পার্ক, আর ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ ও বিন্না ঘাস রোপণ প্রকল্প দুটি ঘোষণা করা হয়েছে পরিত্যক্ত। চারটি প্রকল্পে ৬৫ কোটি ২৮ টাকা ব্যয় হলেও নগরবাসী কোনো সুফল পাননি।

কালবেলা:

ফের বাড়ছে বিএনপির কারাবন্দি নেতাকর্মী
বিএনপির কারাবন্দি নেতাকর্মীর সংখ্যা আবারও বাড়ছে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে যেসব নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তাদের অধিকাংশ মুক্ত হলেও অনেককে নতুনভাবে কারাগারে যেতে হচ্ছে। ঈদুল ফিতরের আগে এবং সম্প্রতি শতাধিক নেতাকর্মী ফের কারাগারে গেছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়। কেউ কেউ আছেন একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। অনেককে বিভিন্ন মামলায় আটকের পর গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে বলে বিএনপির অভিযোগ। সর্বশেষ সোমবার জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বিএনপির কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন অঙ্গসহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতা এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী কারাগারে গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে বন্দি আছেন কেউ কেউ।

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে যুগপৎভাবে লাগাতার আন্দোলনে নামে বিএনপি। মূলত ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের পর থেকে একদফা দাবিতে টানা হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচিতে যায় বিএনপিসহ সমমনা দল এবং জোটগুলো। এ আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলতে পারেনি তারা। একপর্যায়ে গত ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপিসহ ৬২টি রাজনৈতিক দল। ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে সারা দেশে ব্যাপক আন্দোলন করে বিএনপি। নানামুখী তৎপরতার পরও নির্বাচন ঠেকাতে না পারা বিএনপির আন্দোলনে ভাটা পড়ে। সেই থেকে ধীরে চলছে বিএনপি। নেই রাজপথের কঠোর কোনো কর্মসূচি। সম্প্রতি দলীয় কিছু কর্মসূচিতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাধা দিয়েছে বলে দলটির অভিযোগ। বিএনপি নেতারা বলছেন, রাজপথে জোরালো কর্মসূচি না থাকা সত্ত্বেও পুরোনো মামলায় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও সাজার ঘটনা দলের নীতিনির্ধারকদের ভাবিয়ে তুলছে জানা গেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, বিরোধী দলকে দমনের জন্য হামলা-মামলা ও গুলিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে সরকার। এটা সবাই জানেন যে, গত বছরের ২৮ অক্টোবর সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কীভাবে আমাদের নিরীহ ও নিরস্ত্র নেতাকর্মীদের ওপর টিয়ার গ্যাসের শেল ছুড়েছে। অনেকেই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সরকার কিন্তু বিরোধী দল দমনসহ বিএনপিকে ভাঙতে ষড়যন্ত্র করেই যাচ্ছে। মামলা-মোকদ্দমা আজও শেষ হয়নি। এখনো প্রতিদিন হাজার হাজার নেতাকর্মী দেশের বিভিন্ন কোর্টে হাজিরা দিচ্ছেন। নেতাকর্মীদের কারও বিরুদ্ধে ৩০০ থেকে ৫০০ পর্যন্ত মামলা আছে। গভীর রাতেও গ্রামে-গঞ্জে তৃণমূল নেতাকর্মীদের বাড়িতে গিয়ে হানা দেয় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল রাজধানীর গেণ্ডারিয়া থানার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির মকবুল ইসলাম টিপু, ওমর নবি বাবু, মাহবুবুর রহমান টিপু, রফিকুল ইসলাম ময়না, মোহাম্মদ রবিন, মোহাম্মদ সালেহ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর ও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই দিনে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান (ভিপি মিজান), জেলা বিএনপি নেতা মোহিতুর রহমান হেলাল, মাহমুদুর রহমান, স্বাগত কিশোর দাস চৌধুরীসহ ১৪ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া সম্প্রতি রাজধানীর জুরাইন থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি মনির মুন্সী, নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব বাবুসহ গাড়ি চালককে গোয়েন্দা পুলিশ কর্তৃক আটকের পরও অস্বীকার এবং মহানগর যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব শাহেদকে গোয়েন্দা পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ বিএনপির।