ঢাকা ০৩:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গুজরাটে আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, ১৮ জনের মৃত্যু Logo চীনে সেভেন সিস্টার্স নিয়ে যা বলেছিলেন ড. ইউনূস? যেজন্য হতভম্ব ভারত Logo জামায়াতের ঈদ উপলক্ষে প্রীতি ভোজের ঘটনায় বিএনপি – যুবলীগের হামলা Logo শহীদ নাসিব হাসান রিহান-এর পরিবারের সদস্যদের সাথে আমীরে জামায়াতের ঈদ কুশল বিনিময় Logo ড. ইউনূসকে শেহবাজের ফোন, পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ Logo মিয়ানমারে ভূমিকম্প: ২ হাজার ছাড়াল নিহতের সংখ্যা Logo গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: খালেদা জিয়া Logo ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের পদত্যাগ Logo ঈদের নামাজ শেষে ‘জয় বাংলা’স্লোগান, বিএনপির সাথে সংঘর্ষ গুলিবিদ্ধ ১ Logo আইপিএলসহ টিভিতে যা দেকবেন আজ

ছাগল উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ বাংলাদেশ

ছাগল উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ বাংলাদেশ। দেশে উৎপাদিত ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল’ ছাগল এখন নীরব বিপ্লবের নাম। বিশ্ব জাতিসংঘ সংস্থার তথ্যমতে, ছাগল ও মৎস্য উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশ চতুর্থ এবং মাংস রফতানিতে পঞ্চম। সরকারি উদ্যোগে প্রচারণা না থাকায় লোকচক্ষুর আড়ালে পড়ে যাচ্ছে এই স্বীকৃতিটি।

জানতে চাইলে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের ডিজি মো. আইনুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা ছাগল উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। একদিকে অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটছে। পাশাপাশি রফতানির দিকে ঝুঁকছি। মৎস্য এবং ছাগল উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশ চতুর্থ। তবে ছাগল উৎপাদনে সঠিক প্রচারণা না থাকার কারণে এই সাফল্যটি আমাদের অনেকের কাছেই অজানা আছে। এ বিষয়ে অধিদফতর কাজ করছে। আশা করছি, অচিরেই মৎস্যের পাশাপাশি এটারও প্রচারণা শুরু হবে। যাতে এই সেক্টরে দেশের মানুষ উৎসাহিত হয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জানান, মাছে-ভাতে বাঙালি। এ যেন চিরায়ত বাংলার প্রকৃত রূপ। তাই এ নিয়েই চলে সব আলোচনা। ফলাও করে চালানো হয় প্রচার। কারণ মানুষের আমিষের পুরো চাহিদা পূরণ হয় নদীমাতৃক বাংলাদেশের এ খাত থেকে। মৎস্য সপ্তাহ পালনসহ এই সেক্টরকে নিয়ে চলে হইচই। তবে মাংস মানুষের পুষ্টিহীনতা দূর করে। এ নিয়ে প্রচারণা থাকা উচিত। কিন্তু ফল উল্টো। মৎস্য নিয়ে যত সরব ততটাই প্রচারণায়বিমুখ খোদ মন্ত্রণালয় প্রাণিসম্পদ ইস্যুতে। তা না হলে জাতিসংঘের রিপোর্টে মৎস্য এবং ছাগল উৎপাদন দুটিতেই বাংলাদেশ চতুর্থ হলেও একটি নিয়ে ফলাও করে প্রচার করা হয়, অন্যটি নিয়ে কেন নয়; প্রশ্ন রাখেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক লাখ ৪৪ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশে এখন ছাগল রয়েছে আড়াই হাজার কোটির বেশি। ক্রমান্বয়ে এ সংখ্যা বাড়ছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও ঝিনাইদাহের পাশাপাশি সাতক্ষীরা অঞ্চলেও ছাগল পালনের দিকে ঝুঁকছে মানুষ। হাউস ম্যাকারদের (গৃহিণী) কাছে হাত খরচের চাহিদা মিটে থাকে এই ছাগল পালন এবং তা বিক্রির অর্থের মাধ্যমে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্যমতে, পালিত ছাগলের বেশির ভাগই ব্ল্যাক বেঙ্গল। একক কোনো প্রাণী পালনের ক্ষেত্রে এটি একটি রেকর্ড। গত পাঁচ বছরে উৎপাদিত ছাগলের সংখ্যা ৬০ লাখ। তবে গ্রামের অতি-সাধারণ ঘরের মানুষ বাড়তি মুনাফার আশায় ব্ল্যাক বেঙ্গলের সঙ্গে অন্য জাতের ছাগলের সংকরায়ণ করার নজির খুবই কম। ফলে বিশ্বের হাতে গোনা যে চার থেকে পাঁচটি জাতের এখনো সংকরায়ণ হয়নি, সেগুলোর মধ্যে স্বতন্ত্র জাত হিসেবে টিকে আছে ব্ল্যাক বেঙ্গল। তাদের এক তথ্যে জানা গেছে, সারা দেশে ছাগল পালিত হচ্ছে দুই কোটি ৫৪ লাখ ৩৩ হাজার। দেশের প্রায় সব জেলাতেই কমবেশি ছাগল পালিত হচ্ছে। তবে চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলায় বেশি পালিত হয়। পিছিয়ে নেই সাতক্ষীরাসহ অন্য বেশ কটি জেলা। কারণ কম পরিশ্রমে বেশি মুনাফা হওয়ায় এর দিকে ঝুঁকছেন অনেকেই।

জানা যায়, বিশ্বে ছাগল উৎপাদনকারী দেশগুলোকে নিয়ে প্রায় একযুগ ধরে কাজ করছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা ‘এফএও’ এবং আন্তর্জাতিক আণবিক গবেষণা কেন্দ্র (আইএইএ)। সংস্থা দুটির সর্বশেষ মূল্যায়নে, বাংলাদেশের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বিশ্বের অন্যতম সেরা জাত। সংখ্যার দিক থেকে ছাগল উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ বাংলাদেশ। আর ছাগলের মাংস উৎপাদনের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে পঞ্চম।

২০০৭ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থা দুটি বিশ্বের ১০০টি জাতের ছাগলের ওপর গবেষণা করে নিজস্ব এই জাতকে অন্যতম সেরা জাত হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। সংস্থা দুটির ওই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশি বিজ্ঞানীরা বলছেন, অন্য ৯৯টি জাতের সব ধরনের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে তুলনা করলে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলই সবার সেরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের পাশাপাশি রাম-ছাগলেরও জনপ্রিয়তা রয়েছে দেশে। এই ছাগলের উচ্চতাও ভালো। এমনকি পুষ্টিগুণের দিক থেকে এই জাতের ছাগলের দুধ সুস্বাদু এবং খুবই মিষ্টি। ফলে দিনে দিনে এর চাহিদাও বাড়ছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

গুজরাটে আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, ১৮ জনের মৃত্যু

ছাগল উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ বাংলাদেশ

আপডেট সময় ১২:৩৭:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মার্চ ২০২৪

ছাগল উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ বাংলাদেশ। দেশে উৎপাদিত ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল’ ছাগল এখন নীরব বিপ্লবের নাম। বিশ্ব জাতিসংঘ সংস্থার তথ্যমতে, ছাগল ও মৎস্য উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশ চতুর্থ এবং মাংস রফতানিতে পঞ্চম। সরকারি উদ্যোগে প্রচারণা না থাকায় লোকচক্ষুর আড়ালে পড়ে যাচ্ছে এই স্বীকৃতিটি।

জানতে চাইলে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের ডিজি মো. আইনুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা ছাগল উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। একদিকে অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটছে। পাশাপাশি রফতানির দিকে ঝুঁকছি। মৎস্য এবং ছাগল উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশ চতুর্থ। তবে ছাগল উৎপাদনে সঠিক প্রচারণা না থাকার কারণে এই সাফল্যটি আমাদের অনেকের কাছেই অজানা আছে। এ বিষয়ে অধিদফতর কাজ করছে। আশা করছি, অচিরেই মৎস্যের পাশাপাশি এটারও প্রচারণা শুরু হবে। যাতে এই সেক্টরে দেশের মানুষ উৎসাহিত হয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জানান, মাছে-ভাতে বাঙালি। এ যেন চিরায়ত বাংলার প্রকৃত রূপ। তাই এ নিয়েই চলে সব আলোচনা। ফলাও করে চালানো হয় প্রচার। কারণ মানুষের আমিষের পুরো চাহিদা পূরণ হয় নদীমাতৃক বাংলাদেশের এ খাত থেকে। মৎস্য সপ্তাহ পালনসহ এই সেক্টরকে নিয়ে চলে হইচই। তবে মাংস মানুষের পুষ্টিহীনতা দূর করে। এ নিয়ে প্রচারণা থাকা উচিত। কিন্তু ফল উল্টো। মৎস্য নিয়ে যত সরব ততটাই প্রচারণায়বিমুখ খোদ মন্ত্রণালয় প্রাণিসম্পদ ইস্যুতে। তা না হলে জাতিসংঘের রিপোর্টে মৎস্য এবং ছাগল উৎপাদন দুটিতেই বাংলাদেশ চতুর্থ হলেও একটি নিয়ে ফলাও করে প্রচার করা হয়, অন্যটি নিয়ে কেন নয়; প্রশ্ন রাখেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক লাখ ৪৪ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশে এখন ছাগল রয়েছে আড়াই হাজার কোটির বেশি। ক্রমান্বয়ে এ সংখ্যা বাড়ছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও ঝিনাইদাহের পাশাপাশি সাতক্ষীরা অঞ্চলেও ছাগল পালনের দিকে ঝুঁকছে মানুষ। হাউস ম্যাকারদের (গৃহিণী) কাছে হাত খরচের চাহিদা মিটে থাকে এই ছাগল পালন এবং তা বিক্রির অর্থের মাধ্যমে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্যমতে, পালিত ছাগলের বেশির ভাগই ব্ল্যাক বেঙ্গল। একক কোনো প্রাণী পালনের ক্ষেত্রে এটি একটি রেকর্ড। গত পাঁচ বছরে উৎপাদিত ছাগলের সংখ্যা ৬০ লাখ। তবে গ্রামের অতি-সাধারণ ঘরের মানুষ বাড়তি মুনাফার আশায় ব্ল্যাক বেঙ্গলের সঙ্গে অন্য জাতের ছাগলের সংকরায়ণ করার নজির খুবই কম। ফলে বিশ্বের হাতে গোনা যে চার থেকে পাঁচটি জাতের এখনো সংকরায়ণ হয়নি, সেগুলোর মধ্যে স্বতন্ত্র জাত হিসেবে টিকে আছে ব্ল্যাক বেঙ্গল। তাদের এক তথ্যে জানা গেছে, সারা দেশে ছাগল পালিত হচ্ছে দুই কোটি ৫৪ লাখ ৩৩ হাজার। দেশের প্রায় সব জেলাতেই কমবেশি ছাগল পালিত হচ্ছে। তবে চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলায় বেশি পালিত হয়। পিছিয়ে নেই সাতক্ষীরাসহ অন্য বেশ কটি জেলা। কারণ কম পরিশ্রমে বেশি মুনাফা হওয়ায় এর দিকে ঝুঁকছেন অনেকেই।

জানা যায়, বিশ্বে ছাগল উৎপাদনকারী দেশগুলোকে নিয়ে প্রায় একযুগ ধরে কাজ করছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা ‘এফএও’ এবং আন্তর্জাতিক আণবিক গবেষণা কেন্দ্র (আইএইএ)। সংস্থা দুটির সর্বশেষ মূল্যায়নে, বাংলাদেশের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বিশ্বের অন্যতম সেরা জাত। সংখ্যার দিক থেকে ছাগল উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ বাংলাদেশ। আর ছাগলের মাংস উৎপাদনের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে পঞ্চম।

২০০৭ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থা দুটি বিশ্বের ১০০টি জাতের ছাগলের ওপর গবেষণা করে নিজস্ব এই জাতকে অন্যতম সেরা জাত হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। সংস্থা দুটির ওই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশি বিজ্ঞানীরা বলছেন, অন্য ৯৯টি জাতের সব ধরনের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে তুলনা করলে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলই সবার সেরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের পাশাপাশি রাম-ছাগলেরও জনপ্রিয়তা রয়েছে দেশে। এই ছাগলের উচ্চতাও ভালো। এমনকি পুষ্টিগুণের দিক থেকে এই জাতের ছাগলের দুধ সুস্বাদু এবং খুবই মিষ্টি। ফলে দিনে দিনে এর চাহিদাও বাড়ছে।