ঢাকা ১১:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০২৪, ৮ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠের গুরুত্ব

সমগ্র আসমান-জমিন, গ্রহ-নক্ষত্র থেকে শুরু করে গোটা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের একমাত্র অধিপতি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। তাঁর প্রিয় বন্ধু রাসুলুল্লাহ (সা.), যাঁর প্রশংসা খোদ মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন করেন; ফেরেশতারা যাঁর জন্য দোয়ায় মগ্ন থাকে। কেননা মহান আল্লাহর ভালোবাসা পেতে হলে অবশ্যই তাঁকে ভালোবাসতে হবে। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর প্রতি সশ্রদ্ধ দরুদ ও সালাম প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ (ঊর্ধ্বজগতে ফেরেশতাদের মধ্যে) নবীর প্রশংসা করেন এবং তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর জন্য দোয়া করে। হে মুমিনরা, তোমরাও নবীর ওপর দরুদ পাঠ করো এবং তাঁকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।’ (সুরা আহজাব, আয়াত : ৫৬)

এখানে মহনবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠের কিছু ফজিলত তুলে ধরা হলো—

আল্লাহর রহমত পাওয়া যায় : দরুদ পাঠের অন্যতম ফজিলত হলো, এর মাধ্যমে আল্লাহর রহমত পাওয়া যায়, গুনাহ মাফ হয় এবং মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর ১০ বার রহমত নাজিল করবেন, তাঁর ১০টি গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে এবং তার জন্য ১০টি মর্যাদা উন্নীত করা হবে। (নাসায়ি, হাদিস : ১২৯৭)

চিন্তা ও পাপমুক্ত হওয়া যায় : যে দরুদ পাঠ করে তার ওপর মহান আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়, ফলে দরুদ পাঠকারীর দুশ্চিন্তা, দুঃখকষ্ট ও পাপমোচন হয়ে যায়। সাহাবি উবাই ইবনে কা‘ব (রা.)-কে দরুদ পাঠের প্রতি অধিক গুরুত্ব দিয়ে নবীজি (সা.) বলেন, ‘তোমার চিন্তা ও কষ্টের জন্য তা যথেষ্ট হবে এবং তোমার পাপসমূহ ক্ষমা করা হবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৫৭)

নবীজি (সা.)-এর কাছে দরুদ উপস্থাপন : কেউ নবীজি (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করলে তা ফেরেশতাদের মাধ্যমে নবীজি (সা.)-এর কাছে উপস্থাপন করা হয়। আওস ইবনে আওস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, তোমাদের সব দিনের মধ্যে পরমোত্কৃষ্ট দিন হলো জুমার দিন, সেদিন আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিল, সেই দিনই তাঁর ওফাত হয়, সেদিনই দ্বিতীয়বার শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে এবং সেদিন কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে।

অতএব, তোমরা আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পড়ো। কেননা তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়। তাঁরা বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কিভাবে আমাদের দরুদ আপনার কাছে পেশ করা হবে। যেহেতু আপনি (একসময়) ওফাত পেয়ে যাবেন, অর্থাৎ তাঁরা বলেন, আপনার দেহ মাটির সঙ্গে মিশে যাবে। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা জমিনের জন্য নবীদের দেহ গ্রাস করা হারাম করে দিয়েছেন। (নাসায়ি, হাদিস : ১৩৭৪)

তাই আমরা যদি প্রিয় নবীজি (সা.)-এর কাছে আমাদের প্রেমময় দরুদ পাঠাতে চাই, তাহলে আমাদের উচিত, তাঁর ওপর অগাধ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিয়ে বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা।

নবীজি (সা.)-এর সুপারিশ লাভ : আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, তোমরা আজান শুনতে পেলে মুয়াজ্জিন যেরূপ বলে তোমরাও তদ্রূপ বলবে। তারপর আমার ওপর দরুদ পাঠ করবে। কেননা কেউ আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করলে আল্লাহ তার প্রতি ১০ বার রহমত বর্ষণ করেন। অতঃপর তোমরা আল্লাহর কাছে আমার জন্য ওয়াসিলাহ প্রার্থনা করবে। ওয়াসিলাহ হচ্ছে জান্নাতের একটি বিশেষ মর্যাদার আসন, যার অধিকারী হবেন আল্লাহর একজন বিশিষ্ট বান্দা। আমি আশা করছি, আমিই হব সেই বান্দা। কেউ আল্লাহর নিকট আমার জন্য ওয়াসিলাহ প্রার্থনা করলে সে আমার শাফাআত পাবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫২৩)

কিয়ামতের দিন নবীজি (সা.)-এর নৈকট্য লাভ : আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, কিয়ামতের দিন আমার নিকটতম ব্যক্তি হবে, যে আমার প্রতি বেশি পরিমাণে দরুদ পাঠ করেছে। (তিরমিজি, হাদিস : ৪৮৪)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠের গুরুত্ব

আপডেট সময় ১২:৫৩:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩

সমগ্র আসমান-জমিন, গ্রহ-নক্ষত্র থেকে শুরু করে গোটা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের একমাত্র অধিপতি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। তাঁর প্রিয় বন্ধু রাসুলুল্লাহ (সা.), যাঁর প্রশংসা খোদ মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন করেন; ফেরেশতারা যাঁর জন্য দোয়ায় মগ্ন থাকে। কেননা মহান আল্লাহর ভালোবাসা পেতে হলে অবশ্যই তাঁকে ভালোবাসতে হবে। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর প্রতি সশ্রদ্ধ দরুদ ও সালাম প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ (ঊর্ধ্বজগতে ফেরেশতাদের মধ্যে) নবীর প্রশংসা করেন এবং তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর জন্য দোয়া করে। হে মুমিনরা, তোমরাও নবীর ওপর দরুদ পাঠ করো এবং তাঁকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।’ (সুরা আহজাব, আয়াত : ৫৬)

এখানে মহনবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠের কিছু ফজিলত তুলে ধরা হলো—

আল্লাহর রহমত পাওয়া যায় : দরুদ পাঠের অন্যতম ফজিলত হলো, এর মাধ্যমে আল্লাহর রহমত পাওয়া যায়, গুনাহ মাফ হয় এবং মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর ১০ বার রহমত নাজিল করবেন, তাঁর ১০টি গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে এবং তার জন্য ১০টি মর্যাদা উন্নীত করা হবে। (নাসায়ি, হাদিস : ১২৯৭)

চিন্তা ও পাপমুক্ত হওয়া যায় : যে দরুদ পাঠ করে তার ওপর মহান আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়, ফলে দরুদ পাঠকারীর দুশ্চিন্তা, দুঃখকষ্ট ও পাপমোচন হয়ে যায়। সাহাবি উবাই ইবনে কা‘ব (রা.)-কে দরুদ পাঠের প্রতি অধিক গুরুত্ব দিয়ে নবীজি (সা.) বলেন, ‘তোমার চিন্তা ও কষ্টের জন্য তা যথেষ্ট হবে এবং তোমার পাপসমূহ ক্ষমা করা হবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৫৭)

নবীজি (সা.)-এর কাছে দরুদ উপস্থাপন : কেউ নবীজি (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করলে তা ফেরেশতাদের মাধ্যমে নবীজি (সা.)-এর কাছে উপস্থাপন করা হয়। আওস ইবনে আওস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, তোমাদের সব দিনের মধ্যে পরমোত্কৃষ্ট দিন হলো জুমার দিন, সেদিন আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিল, সেই দিনই তাঁর ওফাত হয়, সেদিনই দ্বিতীয়বার শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে এবং সেদিন কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে।

অতএব, তোমরা আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পড়ো। কেননা তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়। তাঁরা বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কিভাবে আমাদের দরুদ আপনার কাছে পেশ করা হবে। যেহেতু আপনি (একসময়) ওফাত পেয়ে যাবেন, অর্থাৎ তাঁরা বলেন, আপনার দেহ মাটির সঙ্গে মিশে যাবে। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা জমিনের জন্য নবীদের দেহ গ্রাস করা হারাম করে দিয়েছেন। (নাসায়ি, হাদিস : ১৩৭৪)

তাই আমরা যদি প্রিয় নবীজি (সা.)-এর কাছে আমাদের প্রেমময় দরুদ পাঠাতে চাই, তাহলে আমাদের উচিত, তাঁর ওপর অগাধ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিয়ে বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা।

নবীজি (সা.)-এর সুপারিশ লাভ : আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, তোমরা আজান শুনতে পেলে মুয়াজ্জিন যেরূপ বলে তোমরাও তদ্রূপ বলবে। তারপর আমার ওপর দরুদ পাঠ করবে। কেননা কেউ আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করলে আল্লাহ তার প্রতি ১০ বার রহমত বর্ষণ করেন। অতঃপর তোমরা আল্লাহর কাছে আমার জন্য ওয়াসিলাহ প্রার্থনা করবে। ওয়াসিলাহ হচ্ছে জান্নাতের একটি বিশেষ মর্যাদার আসন, যার অধিকারী হবেন আল্লাহর একজন বিশিষ্ট বান্দা। আমি আশা করছি, আমিই হব সেই বান্দা। কেউ আল্লাহর নিকট আমার জন্য ওয়াসিলাহ প্রার্থনা করলে সে আমার শাফাআত পাবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫২৩)

কিয়ামতের দিন নবীজি (সা.)-এর নৈকট্য লাভ : আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, কিয়ামতের দিন আমার নিকটতম ব্যক্তি হবে, যে আমার প্রতি বেশি পরিমাণে দরুদ পাঠ করেছে। (তিরমিজি, হাদিস : ৪৮৪)