ঢাকা ০২:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গুজরাটে আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, ১৮ জনের মৃত্যু Logo চীনে সেভেন সিস্টার্স নিয়ে যা বলেছিলেন ড. ইউনূস? যেজন্য হতভম্ব ভারত Logo জামায়াতের ঈদ উপলক্ষে প্রীতি ভোজের ঘটনায় বিএনপি – যুবলীগের হামলা Logo শহীদ নাসিব হাসান রিহান-এর পরিবারের সদস্যদের সাথে আমীরে জামায়াতের ঈদ কুশল বিনিময় Logo ড. ইউনূসকে শেহবাজের ফোন, পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ Logo মিয়ানমারে ভূমিকম্প: ২ হাজার ছাড়াল নিহতের সংখ্যা Logo গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: খালেদা জিয়া Logo ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের পদত্যাগ Logo ঈদের নামাজ শেষে ‘জয় বাংলা’স্লোগান, বিএনপির সাথে সংঘর্ষ গুলিবিদ্ধ ১ Logo আইপিএলসহ টিভিতে যা দেকবেন আজ

ভাবীকে নিয়ে চিন্তিত নন কাদের

রওশন এরশাদ ও তার অনুসারীদের তৎপরতাকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জাপা)। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, বয়স ও শারীরিক নানা সমস্যার কারণে রওশন এরশাদ এখন অনেকটাই জীবনসায়াহ্নে। ফলে তাকে সামনে রেখে যারা দলে বিভক্তির চেষ্টা চালাচ্ছে, তারা বেশি দূর যেতে পারবে না।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রওশনদের তৎপরতার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে দলকে সংগঠিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন জি এম কাদের। এ লক্ষ্যে গতকাল বুধবার বনানীতে দলের প্রেসিডিয়াম ও সংসদ সদস্যদের যৌথ সভা হয়। সভায় আগামী ১২ অক্টোবর জাপার কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তার আগে রোজায় ইফতার অনুষ্ঠান, এপ্রিল মাসে কেন্দ্রীয় বর্ধিত সভা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ এবং সাংগঠনিক সফর শেষে আগস্টের মধ্যে সব জেলায় সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত হয়।

কার্যত রওশন এরশাদপন্থীদের তৎপরতা ঠেকাতে দলের প্রেসিডিয়াম ও সংসদ সদস্যদের যৌথ সভা ডেকে এ সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান। তারা বলছেন, রওশন এরশাদের সম্মেলনের আগে জাপার নিয়ন্ত্রণ যে জি এম কাদেরের হাতেই রয়েছে, সেটি দেখানোটাও যৌথ সভার মূল লক্ষ্য ছিল। জাপার চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের সভাপতিত্বে সভায় দলের জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কো-চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, সালমা ইসলামসহ ২৬ জন উপস্থিত ছিলেন।

সভায় যথাসময়ে দলের কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানের কথা জানিয়ে জি এম কাদের বলেছেন, ‘জাতীয় পার্টি কোনো বিশেষ দলকে বাঁচাতে রাজনীতি করবে না। আমরা আমাদের নিজস্ব রাজনীতি নিয়ে এগিয়ে যাব।’

এদিকে ৯ মার্চের সম্মেলন সামনে রেখে গতকাল জাপার ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার নেতাদের সঙ্গে যৌথ সভা করেন রওশন এরশাদ। সভায় কাজী ফিরোজ রশীদ, সৈয়দ আবু হোসেন, কাজী মামুনূর রশিদ, শফিকুল ইসলামসহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে রওশন এরশাদ বলেন, ‘৯ মার্চের সম্মেলন হবে একটি ঐতিহাসিক সম্মেলন। এই সম্মেলনের মধ্য দিয়েই দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের সূচনা হবে। জাতীয় পার্টিকে আবার আমরা সুসংগঠিত করে রক্ষা করতে পারব।’

তবে জাপার শীর্ষ নেতৃত্ব রওশন এরশাদ ও তার অনুসারীদের এই সম্মেলনের তৎপরতাকে আমলে নিচ্ছেন না। এ বিষয়ে জাপার মহাসচিব মুজিবুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘তথাকথিত সম্মেলন যারা করছে, তারা ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছিল যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও মহাসচিবকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন তাদের ওই চিঠিকে নাকচ করে দিয়েছে। দলের বাইরে কেউ যদি মহাসম্মেলনও করে, সে ব্যাপারে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই।’

সম্প্রতি দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দলের দুই কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ ও সৈয়দ আবু হোসেন, দুই প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায় ও শফিকুল ইসলামকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। চারজনই ৭ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ‘সমঝোতার’ মনোনয়ন থেকে বাদ পড়ায় শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর ক্ষুব্ধ হন। অন্যদিকে, রওশনের ছেলে সাদ এরশাদকে রংপুরে মনোনয়ন না দেওয়ায় রওশন এরশাদ নির্বাচন থেকে বিরত থাকেন। এর জেরে নতুন করে জাপায় দ্বন্দ্ব শুরু হয়। রওশন এরশাদ নিজেকে জাপার চেয়ারম্যান ঘোষণা করে সম্মেলন আহ্বান করেন। এর মধ্য দিয়ে দলে আরেক দফা বিভক্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পৃথক সম্মেলনের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত দল বিভক্তির দিকে গেলেও রওশন এরশাদের ব্যাপারে জাপার শীর্ষ নেতৃত্ব নমনীয় থাকবে। এ বিষয়ে গতকাল প্রেসিডিয়াম ও সংসদ সদস্যদের যৌথ সভা শেষে জাপার মহাসচিব মুজিবুল হক বলেন, রওশন এরশাদের সঙ্গে আমাদের (জাপা) সম্পর্ক স্পর্শকাতর। তাই তার বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে রওশন এরশাদের নাম ব্যবহার করে যারা অন্যায় করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি দলের দুই কো–চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ ও সৈয়দ আবু হোসেনকে বহিষ্কার করার কারণও ব্যাখ্যা করেন।

মুজিবুল হক বলেন, পার্টির চেয়ারম্যান ও মহাসচিবকে বহিষ্কার করার জন্য কাজী ফিরোজ রশীদের বাসায় মিটিং হয়েছিল। তাই কাজী ফিরোজ রশীদকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এদিকে গত রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও মহাসচিব মুজিবুল হকের নির্দেশ ও আহ্বান ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তিদের ডাকে এবং জাতীয় পার্টির নাম ব্যবহার করে কোথাও কোনো সম্মেলন, সমাবেশ কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গুজরাটে আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, ১৮ জনের মৃত্যু

ভাবীকে নিয়ে চিন্তিত নন কাদের

আপডেট সময় ০১:০৩:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মার্চ ২০২৪

রওশন এরশাদ ও তার অনুসারীদের তৎপরতাকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জাপা)। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, বয়স ও শারীরিক নানা সমস্যার কারণে রওশন এরশাদ এখন অনেকটাই জীবনসায়াহ্নে। ফলে তাকে সামনে রেখে যারা দলে বিভক্তির চেষ্টা চালাচ্ছে, তারা বেশি দূর যেতে পারবে না।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রওশনদের তৎপরতার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে দলকে সংগঠিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন জি এম কাদের। এ লক্ষ্যে গতকাল বুধবার বনানীতে দলের প্রেসিডিয়াম ও সংসদ সদস্যদের যৌথ সভা হয়। সভায় আগামী ১২ অক্টোবর জাপার কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তার আগে রোজায় ইফতার অনুষ্ঠান, এপ্রিল মাসে কেন্দ্রীয় বর্ধিত সভা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ এবং সাংগঠনিক সফর শেষে আগস্টের মধ্যে সব জেলায় সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত হয়।

কার্যত রওশন এরশাদপন্থীদের তৎপরতা ঠেকাতে দলের প্রেসিডিয়াম ও সংসদ সদস্যদের যৌথ সভা ডেকে এ সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান। তারা বলছেন, রওশন এরশাদের সম্মেলনের আগে জাপার নিয়ন্ত্রণ যে জি এম কাদেরের হাতেই রয়েছে, সেটি দেখানোটাও যৌথ সভার মূল লক্ষ্য ছিল। জাপার চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের সভাপতিত্বে সভায় দলের জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কো-চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, সালমা ইসলামসহ ২৬ জন উপস্থিত ছিলেন।

সভায় যথাসময়ে দলের কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানের কথা জানিয়ে জি এম কাদের বলেছেন, ‘জাতীয় পার্টি কোনো বিশেষ দলকে বাঁচাতে রাজনীতি করবে না। আমরা আমাদের নিজস্ব রাজনীতি নিয়ে এগিয়ে যাব।’

এদিকে ৯ মার্চের সম্মেলন সামনে রেখে গতকাল জাপার ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার নেতাদের সঙ্গে যৌথ সভা করেন রওশন এরশাদ। সভায় কাজী ফিরোজ রশীদ, সৈয়দ আবু হোসেন, কাজী মামুনূর রশিদ, শফিকুল ইসলামসহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে রওশন এরশাদ বলেন, ‘৯ মার্চের সম্মেলন হবে একটি ঐতিহাসিক সম্মেলন। এই সম্মেলনের মধ্য দিয়েই দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের সূচনা হবে। জাতীয় পার্টিকে আবার আমরা সুসংগঠিত করে রক্ষা করতে পারব।’

তবে জাপার শীর্ষ নেতৃত্ব রওশন এরশাদ ও তার অনুসারীদের এই সম্মেলনের তৎপরতাকে আমলে নিচ্ছেন না। এ বিষয়ে জাপার মহাসচিব মুজিবুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘তথাকথিত সম্মেলন যারা করছে, তারা ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছিল যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও মহাসচিবকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন তাদের ওই চিঠিকে নাকচ করে দিয়েছে। দলের বাইরে কেউ যদি মহাসম্মেলনও করে, সে ব্যাপারে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই।’

সম্প্রতি দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দলের দুই কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ ও সৈয়দ আবু হোসেন, দুই প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায় ও শফিকুল ইসলামকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। চারজনই ৭ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ‘সমঝোতার’ মনোনয়ন থেকে বাদ পড়ায় শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর ক্ষুব্ধ হন। অন্যদিকে, রওশনের ছেলে সাদ এরশাদকে রংপুরে মনোনয়ন না দেওয়ায় রওশন এরশাদ নির্বাচন থেকে বিরত থাকেন। এর জেরে নতুন করে জাপায় দ্বন্দ্ব শুরু হয়। রওশন এরশাদ নিজেকে জাপার চেয়ারম্যান ঘোষণা করে সম্মেলন আহ্বান করেন। এর মধ্য দিয়ে দলে আরেক দফা বিভক্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পৃথক সম্মেলনের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত দল বিভক্তির দিকে গেলেও রওশন এরশাদের ব্যাপারে জাপার শীর্ষ নেতৃত্ব নমনীয় থাকবে। এ বিষয়ে গতকাল প্রেসিডিয়াম ও সংসদ সদস্যদের যৌথ সভা শেষে জাপার মহাসচিব মুজিবুল হক বলেন, রওশন এরশাদের সঙ্গে আমাদের (জাপা) সম্পর্ক স্পর্শকাতর। তাই তার বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে রওশন এরশাদের নাম ব্যবহার করে যারা অন্যায় করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি দলের দুই কো–চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ ও সৈয়দ আবু হোসেনকে বহিষ্কার করার কারণও ব্যাখ্যা করেন।

মুজিবুল হক বলেন, পার্টির চেয়ারম্যান ও মহাসচিবকে বহিষ্কার করার জন্য কাজী ফিরোজ রশীদের বাসায় মিটিং হয়েছিল। তাই কাজী ফিরোজ রশীদকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এদিকে গত রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও মহাসচিব মুজিবুল হকের নির্দেশ ও আহ্বান ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তিদের ডাকে এবং জাতীয় পার্টির নাম ব্যবহার করে কোথাও কোনো সম্মেলন, সমাবেশ কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।