অছাত্র, চাকুরীজীবী, বিবাহিত এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতা- কর্মীদের নিয়েই গঠন করা হয়েছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নতুন কমিটি।এমন অভিযোগে ক্যাম্পাস ও সামাজিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বইছে সমালোচনার ঝড়। কমিটিতে ভেটেরিনারি, এনিমেল অ্যান্ড বায়োমেটিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সানাউল হোসেনকে আহবায়ক এবং কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সোহান তালুকদারকে সদস্য সচিব করা হয়েছে তাদের দুজনেই চাকুরিজীবী। আহবায়ক সানাউল হোসেন বিবাহিত এবং সদস্য সচিব সোহান তালুকদারের ছাত্রত্ব নেই। হঠাৎ করে উড়ে এসে জুড়ে বসে সদস্য সচিব পদ বাগিয়ে নেন সোহান।
জানা যায়,,ছাত্রদল করলেও ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন অছাত্র, ২ নং যুগ্ম আহবায়ক মো আবু সাইদ রবি ও ৮ নং যুগ্ম আহবায়ক মহিউদ্দিন তারেক বিবাহিত, এবং ১নং সদস্য আশরাফুল ইসলাম বিবাহিত, অছাত্র এবং চাকরিজীবী।
সূত্রে জানা যায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতা- কর্মীরা ঠাঁই পেয়েছে নবগঠিত ছাত্রদলের কমিটিতে। ৩নং যুগ্ম আহবায়ক গোলাম রাব্বানী ছাত্রলীগ নেতা এবং অছাত্র। গোলাম রাব্বানী ফ্যাসিস্ট আমলের ভিসি প্রফেসর জামাল উদ্দিন ভূঁইয়ার ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত। ৪ নং যুগ্ম আহ্বায়ক বাফিল আহমেদ অরিত্র যিনি ছাত্রলীগসহ ফ্যাসিবাদী অঙ্গসংগঠন আমরা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান (আমুস) এর কোষাধ্যক্ষ ও কৃষ্ণচূড়া সাংস্কৃতিক সংগঠনের সহ-প্রচার সম্পাদক এবং ৫ আগস্ট পরবর্তী ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলনের অন্যতম কুশীলব ছিলেন। কৃষ্ণচূড়া সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের জন্য বাফিল আহমেদ অরিত্রের অনার্স চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফল স্থগিত রয়েছে। ১২ নং যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান রতন ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের স্লোগান মাস্টার হিসেবে পরিচিত। ৫ নং যুগ্ম আহ্বায়ক ফাহাদ ভূঁইয়া, ৮ নং যুগ্ম আহবায়ক জাহিদ হাসান ফাহাদ, ২০ নং যুগ্ম আহবায়ক মো: নাঈম ইসলাম, ১০ নং যুগ্ম আহবায়ক মো: শাফিউল করিম,২৪ নং যুগ্ম আহবায়ক মো: অমি, ১৩ নং যুগ্ম আহবায়ক আব্দুর রাকিব, ১৬ নং যুগ্ম আহ্বায়ক আবির রায়হান আকাশ যিনি আওয়ামীলীগ মেয়র আনোযারুজ্জামানের নির্বাচনী প্রচারণার মূল ভূমিকা পালনকারী, ১৭ নং সালাউদ্দিন, ২৩ নং যুগ্ম আহবায়ক মেসবাহুর রহমান, ৩ নং সদস্য রাব্বু প্রামানিক, ৭ নং সদস্য তাহসিন আহমেদ সিফাত, ১০ নং সদস্য সাদিকুল ইসলাম,৭ নং সদস্য মেহেদী হাসান, ১২ নং সদস্য রাজেশ বাছাড়, ৫ নং সদস্য সাইমুন ইসলাম সহ কমিটিতে স্থান পাওয়া অধিকাংশই ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এর পূর্বে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। এদিকে, আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব দুইজন চাকরিজীবী হওয়াতে ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।