কাশ্মীর সীমান্তে ভারত ও পাকিস্তান সেনাদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) রাতে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে সেখানে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি অভ্যন্তরীণ সামরিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানায়।
ভারতীয় সামরিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে জম্মু ও কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) বরাবর পাকিস্তানি সেনারা কিছু ভারতীয় চৌকিতে গুলি চালায়। ফলে ভারতীয় সেনাবাহিনীও পাল্টা গুলি চালায়।
সূত্রটি আরও জানায়, ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে ‘কার্যকরভাবে জবাব দিয়েছে’। পাকিস্তানি বাহিনী ছোট অস্ত্র ব্যবহার করে গুলি করেছিল। এ গুলি বিনিময়ে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।কাশ্মীরের পহেলগামে পর্যটকদের উপর সন্ত্রাসী হামলার জেরে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা চরমে। এর মধ্যে সীমান্তে গোলাগুলি হলো। এতে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে নতুন সংকট তৈরির শঙ্কা করছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
এর আগে ভারতের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায় পাকিস্তানও। বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, ভারতের নাগরিকদের জন্য পাকিস্তানের ভিসা প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত করা, ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া এবং দুই দেশের মধ্যে সব ধরনের বাণিজ্যিক লেনদেন স্থগিত করাসহ আরও কিছু সিদ্ধান্ত।
এদিকে সামরিক প্রস্তুতি শুরু করেছে পাকিস্তান। কারণ, পাকিস্তানে যে কোনো সময় হামলা করতে পারে ভারত । এমন সম্ভাবনা ঘিরে ধরেছে পাকিস্তানকে। ফলে হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী।
ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের ক্রমবর্ধমান হুমকির ফলে পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের এ বিশ্বাস দৃঢ় হচ্ছে। ভারতীয় সামরিক পদক্ষেপ এখন সম্ভব হতে পারে, তাই যেকোনো ভারতীয় আক্রমণ প্রতিহতের জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি সামরিক সূত্র।
একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলজাজিরাকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা উচ্চ স্তরের সতর্কতা বজায় রাখছি। কিন্তু ভারতের মতো আমরা আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলে কোনো অপ্রয়োজনীয় ‘হাইপ’ তৈরি করতে চাই না।