ঢাকা ০৩:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এবার তরমুজ লুট ও পরিবহনে বাধার দেয় বিএনপি নেতারা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৮:৫২:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • 0 Views

পটুয়াখালীর বাউফলের চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে চাষিদের তরমুজ পরিবহনে বাধা ও লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এতে তরমুজ চাষিরা বিপাকে পড়েছেন। এছাড়া এক চাষির তরমুজভর্তি ট্রলার ছিনতাই করে তরমুজ লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।

গতকাল বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে বাউফল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন মোসলেম উদ্দিন মোচন নামে এক তরমুজচাষি। অন্যদিকে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে এক চাষির তরমুজভর্তি ট্রলার লুটের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, নাজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন খানের নেতৃত্বে তার ছেলে মো. সাইফুল খান ও তার সহযোগীরা ট্রলারটি ছিনতাই করেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, এ বছর তিনি চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের নিমদীর চরে প্রায় ১২৩ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। রমজানের বাজার ধরতে তরমুজ কাটা শুরু হলে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) তিনি ক্ষেত থেকে তরমুজ কেটে ট্রলিতে তুলতে যান। এ সময় স্থানীয় যুবদল নেতা মো. রমিজ উদ্দিনের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি দল এসে তরমুজ পরিবহনে বাধা দেয়। চাষিদের অভিযোগ, ওই দলটি গাড়ি চালককে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয় এবং হুমকি দেয় যে, তাদের অনুমোদিত গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো গাড়িতে তরমুজ পরিবহন করা যাবে না। এতে চাষিদের বিক্রির জন্য কাটা তরমুজ পড়ে থাকে, যা তাদের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এ বিষয়ে মোসলেম উদ্দিন মোচন বলেছেন, আগে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আলকাচ মোল্লা আমাদের হয়রানি করতেন, এখন বিএনপির নেতাকর্মীরা আরও বেশি হয়রানি করছে। একই অভিযোগ করেছেন চাষি মিলন, পারভেজ, ইউসুফ ও ইয়াকুবসহ আরও কয়েকজন।

তবে যুবদল নেতা মো. রমিজ উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব মিথ্যা অভিযোগ, আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।

এ বিষয়ে বাউফল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাহাবুদ্দিন হাওলাদার বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। যদি চাষিদের তরমুজ পরিবহনে ফের কেউ বাধা দেয়, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাষি মো. মানিক মিয়া মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) তরমুজ কেটে ট্রলারে তুলে বরিশাল নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। দুপুর ১টার দিকে এনায়েত হোসেন খানের ছেলে সাইফুল খান দলবল নিয়ে এসে চর নিমদী এলাকা থেকে ট্রলারটি ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তারা ট্রলার চালক ও চাষি মানিক মিয়াকে মারধর করে এবং তার কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে তারা ট্রলারটি নিমদী লঞ্চঘাট এলাকায় নিয়ে যায় এবং এক হাজার পিস তরমুজ অন্য একটি ট্রলারে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এছাড়া আরও দেড় শতাধিক তরমুজ নষ্ট করে ফেলে।

নাজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন খানকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, আপনি আমার নাম উঠাইলেন কেন? আর কোনো সাংবাদিক তো এ কথা বলে নাই ,আপনি কেন এই কথা বললেন? এইসব কথা বার্তা বলবেন না কখনো ।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, পরিবহনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল এখন আর সমস্যা নেই। তরমুজভর্তি ট্রলার লুটের ঘটনায় মৌখিকভাবে অভিযোগ পেয়েছি। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের যেকোনো প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গে প্রস্তুত থাকতে হবে : সেনাপ্রধান

এবার তরমুজ লুট ও পরিবহনে বাধার দেয় বিএনপি নেতারা

আপডেট সময় ০৮:৫২:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

পটুয়াখালীর বাউফলের চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে চাষিদের তরমুজ পরিবহনে বাধা ও লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এতে তরমুজ চাষিরা বিপাকে পড়েছেন। এছাড়া এক চাষির তরমুজভর্তি ট্রলার ছিনতাই করে তরমুজ লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।

গতকাল বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে বাউফল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন মোসলেম উদ্দিন মোচন নামে এক তরমুজচাষি। অন্যদিকে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে এক চাষির তরমুজভর্তি ট্রলার লুটের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, নাজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন খানের নেতৃত্বে তার ছেলে মো. সাইফুল খান ও তার সহযোগীরা ট্রলারটি ছিনতাই করেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, এ বছর তিনি চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের নিমদীর চরে প্রায় ১২৩ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। রমজানের বাজার ধরতে তরমুজ কাটা শুরু হলে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) তিনি ক্ষেত থেকে তরমুজ কেটে ট্রলিতে তুলতে যান। এ সময় স্থানীয় যুবদল নেতা মো. রমিজ উদ্দিনের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি দল এসে তরমুজ পরিবহনে বাধা দেয়। চাষিদের অভিযোগ, ওই দলটি গাড়ি চালককে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয় এবং হুমকি দেয় যে, তাদের অনুমোদিত গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো গাড়িতে তরমুজ পরিবহন করা যাবে না। এতে চাষিদের বিক্রির জন্য কাটা তরমুজ পড়ে থাকে, যা তাদের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এ বিষয়ে মোসলেম উদ্দিন মোচন বলেছেন, আগে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আলকাচ মোল্লা আমাদের হয়রানি করতেন, এখন বিএনপির নেতাকর্মীরা আরও বেশি হয়রানি করছে। একই অভিযোগ করেছেন চাষি মিলন, পারভেজ, ইউসুফ ও ইয়াকুবসহ আরও কয়েকজন।

তবে যুবদল নেতা মো. রমিজ উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব মিথ্যা অভিযোগ, আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।

এ বিষয়ে বাউফল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাহাবুদ্দিন হাওলাদার বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। যদি চাষিদের তরমুজ পরিবহনে ফের কেউ বাধা দেয়, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাষি মো. মানিক মিয়া মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) তরমুজ কেটে ট্রলারে তুলে বরিশাল নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। দুপুর ১টার দিকে এনায়েত হোসেন খানের ছেলে সাইফুল খান দলবল নিয়ে এসে চর নিমদী এলাকা থেকে ট্রলারটি ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তারা ট্রলার চালক ও চাষি মানিক মিয়াকে মারধর করে এবং তার কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে তারা ট্রলারটি নিমদী লঞ্চঘাট এলাকায় নিয়ে যায় এবং এক হাজার পিস তরমুজ অন্য একটি ট্রলারে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এছাড়া আরও দেড় শতাধিক তরমুজ নষ্ট করে ফেলে।

নাজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন খানকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, আপনি আমার নাম উঠাইলেন কেন? আর কোনো সাংবাদিক তো এ কথা বলে নাই ,আপনি কেন এই কথা বললেন? এইসব কথা বার্তা বলবেন না কখনো ।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, পরিবহনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল এখন আর সমস্যা নেই। তরমুজভর্তি ট্রলার লুটের ঘটনায় মৌখিকভাবে অভিযোগ পেয়েছি। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।