ঢাকা ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গুজরাটে আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, ১৮ জনের মৃত্যু Logo চীনে সেভেন সিস্টার্স নিয়ে যা বলেছিলেন ড. ইউনূস? যেজন্য হতভম্ব ভারত Logo জামায়াতের ঈদ উপলক্ষে প্রীতি ভোজের ঘটনায় বিএনপি – যুবলীগের হামলা Logo শহীদ নাসিব হাসান রিহান-এর পরিবারের সদস্যদের সাথে আমীরে জামায়াতের ঈদ কুশল বিনিময় Logo ড. ইউনূসকে শেহবাজের ফোন, পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ Logo মিয়ানমারে ভূমিকম্প: ২ হাজার ছাড়াল নিহতের সংখ্যা Logo গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: খালেদা জিয়া Logo ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের পদত্যাগ Logo ঈদের নামাজ শেষে ‘জয় বাংলা’স্লোগান, বিএনপির সাথে সংঘর্ষ গুলিবিদ্ধ ১ Logo আইপিএলসহ টিভিতে যা দেকবেন আজ

ফ্যাসিবাদের বিপক্ষের সব সংগঠনকে শিবির সভাপতির আহ্বান

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:১৯:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • 0 Views

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, ‘ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা বিভক্তি আর বিভাজনের রাজনীতি লক্ষ করছি। বাংলাদেশে কোনো ব্যক্তি বা দলের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যদি জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হয়, তবে তাদের জাতির বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘কারও ভূমিকার কারণে যদি ফ্যাসিবাদ আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তবে ছাত্রসমাজ অতীতে ফ্যাসিবাদের যে পরিণতি করেছে, ভবিষ্যতে আপনাদেরও সেই একই পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। এ সময় তিনি জামায়তে ইসলামী ও বিএনপিসহ ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে ভূমিকা পালনকারী সব রাজনৈতিক দল ও ছাত্রসংগঠনকে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান।

শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে ছাত্রশিবিরের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালি পরবর্তী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। মেধা ও সততায় গড়ব সবার বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মহানগর ছাত্রশিবিরের আয়োজনে সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে থেকে র্যালি শুরু হয়ে শাহবাগ, মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব থেকে পল্টনে এসে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে র্যালিতে ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম ছাত্রশিবির সংগীতের রচয়িতা ডা. মোহাম্মদ মোরশেদ আলী উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি ও কার্যকরী পরিষদের সদস্যসহ ঢাকা মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখাগুলোর দায়িত্বশীল নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলার এই পবিত্র ভূমি ইসলামী ভাবধারা ও জাতিসত্তার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু একাত্তর-পরবর্তী বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্রের নামে ইসলামকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হয়। ইসলাম ও একাত্তরকে পরস্পরের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। সংবিধানের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ইসলাম-বিমুখ ও ইসলামবিদ্বেষী রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র হয়। বিভিন্ন স্থানে ইসলামি চিহ্ন মুছে ফেলার অপপ্রয়াস চালানো হয়, শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষাঙ্গনকে ইসলামের বিপরীতে দাঁড় করানো হয়।’

রক্ষী বাহিনী ও লাল বাহিনীর নামে এ দেশে গুম, খুন ও হত্যার রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শেখ মুজিব বাকশাল কায়েম করেছিলেন। পঁচাত্তর-পরবর্তী সময় ছিল ভয়াবহ সংকটময়। ছাত্রসমাজ ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে, শিক্ষাঙ্গনগুলো অস্ত্রের ঝনঝনানি, হত্যা, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। নীতিহীন ছাত্ররাজনীতির কারণে দিশেহারা তরুণ সমাজ তখন মুক্তির পথ খুঁজছিল, এই বাস্তবতায় ইসলামের আলোয় তরুণ সমাজকে আলোকিত করার ঐতিহাসিক দায়িত্ব নিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের আবির্ভাব ঘটে।’

তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির মেধা ও নৈতিকতার চর্চার মধ্য দিয়ে ছাত্রবান্ধব ও গঠনমূলক ইতিবাচক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু কিছু ছাত্র সংগঠন ছাত্ররাজনীতির নামে পুনরায় অপরাজনীতি বাংলাদেশের ছাত্রসমাজকে আতঙ্কিত করে তুলছে। তারা বারবার সেই পুরনো ফ্যাসিবাদী রাজনীতির জায়গায় ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ক্যাম্পাসগুলোয় আবারও হত্যার রাজনীতি শুরু করার চেষ্টা করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গুজরাটে আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, ১৮ জনের মৃত্যু

ফ্যাসিবাদের বিপক্ষের সব সংগঠনকে শিবির সভাপতির আহ্বান

আপডেট সময় ১১:১৯:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, ‘ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা বিভক্তি আর বিভাজনের রাজনীতি লক্ষ করছি। বাংলাদেশে কোনো ব্যক্তি বা দলের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যদি জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হয়, তবে তাদের জাতির বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘কারও ভূমিকার কারণে যদি ফ্যাসিবাদ আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তবে ছাত্রসমাজ অতীতে ফ্যাসিবাদের যে পরিণতি করেছে, ভবিষ্যতে আপনাদেরও সেই একই পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। এ সময় তিনি জামায়তে ইসলামী ও বিএনপিসহ ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে ভূমিকা পালনকারী সব রাজনৈতিক দল ও ছাত্রসংগঠনকে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান।

শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে ছাত্রশিবিরের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালি পরবর্তী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। মেধা ও সততায় গড়ব সবার বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মহানগর ছাত্রশিবিরের আয়োজনে সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে থেকে র্যালি শুরু হয়ে শাহবাগ, মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব থেকে পল্টনে এসে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে র্যালিতে ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম ছাত্রশিবির সংগীতের রচয়িতা ডা. মোহাম্মদ মোরশেদ আলী উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি ও কার্যকরী পরিষদের সদস্যসহ ঢাকা মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখাগুলোর দায়িত্বশীল নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলার এই পবিত্র ভূমি ইসলামী ভাবধারা ও জাতিসত্তার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু একাত্তর-পরবর্তী বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্রের নামে ইসলামকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হয়। ইসলাম ও একাত্তরকে পরস্পরের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। সংবিধানের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ইসলাম-বিমুখ ও ইসলামবিদ্বেষী রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র হয়। বিভিন্ন স্থানে ইসলামি চিহ্ন মুছে ফেলার অপপ্রয়াস চালানো হয়, শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষাঙ্গনকে ইসলামের বিপরীতে দাঁড় করানো হয়।’

রক্ষী বাহিনী ও লাল বাহিনীর নামে এ দেশে গুম, খুন ও হত্যার রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শেখ মুজিব বাকশাল কায়েম করেছিলেন। পঁচাত্তর-পরবর্তী সময় ছিল ভয়াবহ সংকটময়। ছাত্রসমাজ ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে, শিক্ষাঙ্গনগুলো অস্ত্রের ঝনঝনানি, হত্যা, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। নীতিহীন ছাত্ররাজনীতির কারণে দিশেহারা তরুণ সমাজ তখন মুক্তির পথ খুঁজছিল, এই বাস্তবতায় ইসলামের আলোয় তরুণ সমাজকে আলোকিত করার ঐতিহাসিক দায়িত্ব নিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের আবির্ভাব ঘটে।’

তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির মেধা ও নৈতিকতার চর্চার মধ্য দিয়ে ছাত্রবান্ধব ও গঠনমূলক ইতিবাচক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু কিছু ছাত্র সংগঠন ছাত্ররাজনীতির নামে পুনরায় অপরাজনীতি বাংলাদেশের ছাত্রসমাজকে আতঙ্কিত করে তুলছে। তারা বারবার সেই পুরনো ফ্যাসিবাদী রাজনীতির জায়গায় ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ক্যাম্পাসগুলোয় আবারও হত্যার রাজনীতি শুরু করার চেষ্টা করছে।