সাধারণ মানুষের কাছে তিনি জনপ্রিয় ক্রীড়া সাংবাদিক এবং ক্রিকেট বিশ্লেষক। আর ক্রিকেট সাংবাদিকদের কাছে একজন হাসিখুশি ও দিলখোলা সহকর্মী তিনি। ব্যক্তিগত পড়াশোনা করেন বলেই সবাই জানতো দেব চৌধুরী সম্পর্কে। যদিও ভেতর ভেতর নিজের মধ্যে যে এতবড় একটি পরিবর্তন নিয়ে আসছেন, তা খুব ঘনিষ্ট কয়েকজন ছাড়া অন্যরা জানতেন না।
যে কারণে, শুক্রবার যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় দেব চৌধুরীর ইসলাম গ্রহণের খবর ছড়িয়ে পড়ে, তখন সহকর্মীদের অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। অনেকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, যে খুব সাহসী এবং চ্যালেঞ্জিং একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন জীবনের পথে পা বাড়িয়েছেন তিনি।
খবরে প্রকাশ, শুক্রবার জুমার নামাজের পর মিরপুর দারুসসালাম শাহী মসজিদে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন দেব চৌধুরী। তাকে শাহাদাহ পড়ান দারুসসালাম মসজিদের খতিব ও ইসলামিক স্কলার আবদুল হাই মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
শুক্রবার বিকাল থেকেই টক অব দ্য সোশ্যাল মিডিয়া ছিল দেব চৌধুরীর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা। কেউ কেউ আবার বিশ্বাসও করতে চাইলেন না। কারণ, সোশ্যাল মিডিয়ায় যে সংবাদ ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানে দেব চৌধুরী বা তাকে যিনি শাহাদাহ পড়িয়েছেন সেই আবদুল হাই মোহাম্মদ সাইফুল্লাহরও কোনো বক্তব্য নেই বলে।
দেব চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি ইসলাম গ্রহণের কথা স্বীকার করেন। জানিয়ে দেন, কারো প্ররোচনা, প্রলোভন বা অন্য কোনোভাবে প্রভাবিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেননি। তিনি নিজে সম্পুর্ণ স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে এবং জেনে-বুঝেই ইসলাম গ্রহণ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি ধর্মান্তরিত হয়েছি এটা সত্য। তবে কারো প্ররোচনায় কিংবা প্রলোভনে পড়ে নয়। কিংবা পরিস্থিতির কোনো চাপেও নয়। আমি দীর্ঘদিন থেকে ইসলামকে ফলো করতে শুরু করি। ব্যাপক পড়াশোনা করেছি, ইসলাম সম্পর্কে জেনেছি। পড়াশোনা করে জানার পর আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে শান্তির ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করবো। এখন আমি একজন প্র্যাকটিসিং মুসলিম হতে চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’
নতুন কী নাম নিয়েছেন, সেটা এখনও জানাননি দেব চৌধুরী। শুধু এটুকু বলেছেন, ‘আমি আগে যেমন হাসি-খুশি থাকতাম, সবার সাথে দিলখোলা ও উদারভাবে মিশতাম, মানুষটা আমি এখনও তেমনই থাকবো। পরিবর্তন কেউ দেখবে না। শুধু পার্থক্য এটুকু, আমি আগে ছিলাম হিন্দু, এখন হয়েছি মুসলিম। সে সঙ্গে প্র্যাকটিসিং মুসলিম হওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।’